ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: বর্ধমান শহর সংলগ্ন রেনেসাঁ উপনগরী এলাকা থেকে অবৈধ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ধৃত দুই যুবককে ১৫ দিনর অন্তবর্তী জামিন দিল আদালত। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা দাবি করেছে, তারা পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার একাধিক বালি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বেআইনিভাবে নগদ টাকা সংগ্রহ করছিল এবং সেই টাকা নিয়ে বাঁকুড়ায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। আর এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে খোদ বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদের।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে পূর্ব বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক ব্যানার্জী জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার বিকেলে একটি সাদা চার চাকা গাড়ি আটক করে পুলিশ। ওই গাড়ি থেকে ৬ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা জানিয়েছে, জেলা ও পাশ্ববর্তী জেলার বিভিন্ন বালিঘাট থেকে এই টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-র পিএ হৃদয় পাল এই টাকা সংগ্রহের জন্য তাদের পাঠিয়েছিলেন বলে ধৃতদের দাবি।
স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনাকে ঘিরে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, “বিজেপি তোলাবাজি করে তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। আমরা চাই প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। কে জামিন পেল তাতে কিছু যায় আসে না। চোরের মায়ের বড় গলাই আসল কথা।”
অন্যদিকে বিজেপি নেতা দেবজ্যোতি সিংহরায় বলেন, “রাজ্যে শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকে, কিন্তু বিজেপির নাম জড়ালেই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। বর্ধমানের টাকা উদ্ধারের ঘটনাতেও আমাদের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-র নাম জড়িয়ে ঘটনাটিকে সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিচার ব্যবস্থার উপর বিজেপির সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আদালতের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। পুলিশ প্রশাসনের উচিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিক পরিষেবায় মনোযোগ দেওয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে হেয় করার চেষ্টা বন্ধ করা।”








