ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: ক্রমবর্ধমান বিশ্বউষ্ণায়ন এবং পরিবেশ দূষণের করাল গ্রাস থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করার ডাক দিল খুদে পড়ুয়ারা। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা প্রায় দেড় ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি পেতে চলেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবং ‘প্রকৃতি আমাদের মা’—এই মন্ত্রকে পাথেয় করে বর্ধমানের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মিলিত প্রয়াস’ গ্রহণ করল এক অভিনব উদ্যোগ। বর্ধমান রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত হল পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক আন্তঃপ্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাটক প্রতিযোগিতা।

এদিন এই বিশেষ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বর্ধমানের তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক রামশংকর মন্ডল। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ললিত কোণার, দীপেন্দ্রনাথ শীল সহ শহরের বিশিষ্ট গুণীজনেরা। এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই পাঁচজন বরেণ্য প্রবীণ নাট্য ব্যক্তিত্বকে বিশেষ সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়, যা অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য আরও বাড়িয়ে তোলে।
আয়োজক সংস্থার পক্ষে প্রতনু রক্ষিত প্রশাসনিক সূত্রে জানান, মোট আটটি বিদ্যালয় এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। জলদূষণ, বায়ুদূষণ, প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার, বৃক্ষচ্ছেদন থেকে শুরু করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—পরিবেশ রক্ষার নানা দিক উঠে আসে শিশুদের সাবলীল অভিনয়ে। ছোট ছোট শিশুদের শিল্পসত্তার সঙ্গে পরিবেশ বাঁচানোর গুরুদায়িত্বের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ প্রত্যক্ষ করলেন দর্শকরা। সাইকেলের ব্যবহার বাড়ানোর মতো বার্তা দিয়ে সচেতনতার প্রসার ঘটায় এই নাটকগুলি।
প্রতিযোগিতায় বিচারকের গুরুদায়িত্ব পালন করেন মাননীয় নীলেন্দু সেনগুপ্ত এবং শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী। বিচারকদের রায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে পহলানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে যথাক্রমে নারী ফ্রি প্রাইমারি বিদ্যালয় এবং রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়াও কিশলয় পথশিশু পাঠশালা এবং হেমচন্দ্র জুনিয়র বেসিক বিদ্যালয়কে বিশেষ পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হয়।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে কিশলয় পথশিশু পাঠশালার কর্ণধার ডঃ গোপাল ঘোষাল এবং রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, শিশুদের বড় মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ করে দেওয়া এবং তাদের কচি মনে পরিবেশ সচেতনতার বীজ বপন করার এই প্রয়াস আগামীর সমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।









