ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল বর্ধমান। শহরের শিয়ালডাঙ্গা মোড় এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উভয় পক্ষের বাদানুবাদ মুহূর্তে হাতাহাতিতে পৌঁছায় এবং সংঘর্ষে বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, খবর পাওয়া মাত্রই বর্ধমান থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ধমান শহর সহ-সভাপতি শ্যামল রায় এই ঘটনায় বিরোধীদের দিকেই আঙুল তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘এদিন সন্ধ্যায় আমাদের দলীয় কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে এলাকায় দেওয়াল লিখনের কাজ করছিলেন। সেই সময় বিজেপির খোকন সেনের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী মুখে কাপড় বেঁধে ছটি বাইকে করে এসে আমাদের চুনকাম করা দেওয়ালে জোর করে বিজেপির পোস্টার সাঁটিয়ে দেয়। আমরা এর গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের কর্মীদের ওপর চড়াও হয় এবং মারধর শুরু করে।’ তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয় মানুষের প্রতিরোধের মুখে পড়ে অভিযুক্তরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে শাসকদলের সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির জেলা যুব নেতা শান্তনু পাল্টা দাবি করে জানিয়েছেন, শ্যামল রায়ের অনুগামীরাই বিজেপি কর্মীদের ওপর অকারণ হামলা চালিয়েছে। আমার দলের কর্মসূচি মেনে জনসংযোগ প্রচার করছিলাম। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। পাল্টা আমাদের দলের কর্মীরাও সংঘবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলে রীতিমত তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনীকে তাড়া করে এলাকা ছাড়া করে দিয়েছে। এবার থেকে ইট মারার চেষ্টা করলে পাটকেল তৈরি রাখা হবে, এটা তৃণমূল মাথায় ঢুকিয়ে নিক। মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে শাসকদল।’
বর্তমানে এলাকাটি থমথমে রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই জয়ন্ত দাস নামে বিজেপির এক কর্য্যকর্তা কে আটক করেছে এবং বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। পরিস্থিতি যাতে নতুন করে উত্তপ্ত না হয়, সেই লক্ষ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।








