ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, খন্ডঘোষ: পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে পৌঁছেছে। গত ১লা এপ্রিল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নবীনচন্দ্র বাগের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল র্যালিকে কেন্দ্র করে অভূতপূর্ব সাড়া মিলল জেলা রাজনীতিতে। বর্ধমান-আরামবাগ ৭ নম্বর রাজ্য সড়কের সিপটার ঢাল থেকে সেহারাবাজার বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এই মিছিলে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জনসমুদ্রের এই ঢেউ কার্যত স্তব্ধ করে দেয় যান চলাচল, যা এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

এদিনের র্যালিতে প্রধান আকর্ষণ ছিলেন সাংসদ তথা জনপ্রিয় অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। জনসমর্থনের এই বিপুল বহিঃপ্রকাশ দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, মানুষের কল্যাণে প্রকৃত কাজ করলে যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও সমর্থন পাওয়া যায়, খণ্ডঘোষের এই জমায়েত তারই চাক্ষুষ প্রমাণ। তিনি আরও যোগ করেন, আগে জল্পনা শোনা যাচ্ছিল যে দীর্ঘদিন বিধায়ক পদে থাকার ফলে নবীনচন্দ্র বাগের প্রতি জনসমর্থনে ভাটা পড়েছে, কিন্তু আজকের এই র্যালি সেই সমস্ত ধারণাকে ভিত্তিহীন প্রমাণিত করেছে। সায়নীর মতে, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে খণ্ডঘোষের সাধারণ মানুষ এখনও তাঁদের প্রার্থীর উপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন।

র্যালির সমাপ্তিতে সেহারাবাজার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় একটি সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার প্রারম্ভে সায়নী ঘোষ ও নবীনচন্দ্র বাগকে স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সভায় আত্মবিশ্বাসের সুরে সায়নী ঘোষ দাবি করেন, খণ্ডঘোষ কেন্দ্র থেকে নবীনচন্দ্র বাগ বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবেন এবং আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাধিক্য অর্জন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পুনরায় সরকার গঠন করবে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই জয় হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে প্রার্থী নবীনচন্দ্র বাগ বলেন, আজকের এই লক্ষাধিক মানুষের জমায়েতই জয়ের মাপকাঠি নির্ধারণ করে দিয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, খণ্ডঘোষ আসনটি থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমাবেশ শুধু একটি নির্বাচনী কর্মসূচিই নয়, বরং আসন্ন ভোটের আগে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের এক বলিষ্ঠ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, এদিনের কর্মসূচি মানুষের আবেগ, আস্থা ও রাজনৈতিক সমর্থনের এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।








