ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,গলসি: পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি এলাকায় মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ব্যক্তির অকালপ্রয়াণ ঘটেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার আনুমানিক সকাল সাতটা নাগাদ। গলসি থানার অন্তর্গত বড়মুড়িয়া এলাকায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর দুর্ঘটনাটি ঘটে। পেশায় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কর্মী শেখ দায়েম নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একটি বেপরোয়া গতির ডাম্পার তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার জেরে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপশি শোকের ছায়া নেমে আসে।

দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত আনুমানিক আটটা নাগাদ, পুরসা হাসপাতাল সংলগ্ন ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কেই। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বর্ধমানমুখী একটি মোটর-সাইকেলের পিছনে একটি দ্রুতগামী লরি আচমকা ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মোটর-সাইকেল আরোহী শেখ আব্দুল জব্বার (৪৫)। নিহত ব্যক্তি গলসির শিড়রাই গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই গলসি থানার পুলিশ ও ট্রাফিক ওসি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
জাতীয় সড়কের উপর পরপর এই দুটি প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয় জনমানসে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারী পণ্যবাহী যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, দুটি ক্ষেত্রেই ঘাতক যানবাহনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনাগুলি ঘটল, নাকি চালকের অসাবধানতা এর পিছনে দায়ী, তা খতিয়ে দেখতে বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। জাতীয় সড়কে নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনা রোধে পুলিশি টহলদারির ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।








