ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, পূর্ব বর্ধমান: রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধী চক্রের মূল উৎপাটন করতে গত বেশ কিছুদিন ধরেই বিশেষ অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে জেলা পুলিশ। গত দুই দিনের টানা তল্লাশিতে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ৯টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ধৃতদের মধ্যে রয়েছে বর্ধমান থানার রাজা ভুঁইয়া, গোবিন্দ বল, শেখ রাজা ও রাজা ধর, শক্তিগড় থানার হাসান খান ওরফে চাঁদুল, গলসি থানার শেখ মনিরুল ওরফে মিঠু এবং আউশগ্রাম থানার সমর হালদার, স্বপন শিকদার ও বরজাহান মোল্লা। প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে তাদের আদালতে পেশ করা হয়েছে। কেবল অস্ত্র উদ্ধার নয়, অপরাধ দমনে সর্বাত্মক পথ অবলম্বন করছে প্রশাসন। গত এক সপ্তাহে এলাকা জুড়ে ভীতি প্রদর্শন ও তোলাবাজিতে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ১৭ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একাধিক তৃণমূল নেতাও রয়েছে। এই তালিকায় নাম রয়েছে বর্ধমান থানার শিবশঙ্কর ওরফে শিবু ও গোদা এলাকার খন্দকার ফজলুর রহমান ওরফে সবুজ, কাটোয়ার বাবুলাল শেখ ও চাট্টু শেখ, জামালপুরের শেখ সাহাবুদ্দিন ওরফে দানি, তবরক আলি মণ্ডল ও আজাদ রহমান এবং মেমারি থানার রাজকুমার মণ্ডলের মতো কুখ্যাত ব্যক্তিদের।

এছাড়াও গতকাল রাতে গোপন সূত্রে সংবাদ পেয়ে মেমারি থানার পুলিশ নিশ্শঙ্ক বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সামিম খান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে, যার কাছ থেকে একটি দেশি পাইপগান ও কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের রেশ ছড়িয়েছে মাদক বিরোধী অভিযানেও। ভাতার ও পূর্বস্থলী থানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ২ জনকে। জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৩৭ জন ‘রাউডি’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের এই ধারাবাহিক অভিযান আগামীদিনেও অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে জেলা পুলিশ সর্বদা বদ্ধপরিকর ও তৎপর রয়েছে।








