---Advertisement---

Auto Image Slider

জনতার দোরগোড়ায় প্রশাসন, পূর্ব বর্ধমানের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় শুরু হল জনভাগীদারি অভিযান

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: জেলার প্রান্তিক ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার মানুষদের সরকারি পরিষেবার আওতায় আনতে এক বিশেষ প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। সোমবার বিবেকানন্দ কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ কর্মসূচি ‘জনভাগীদারি অভিযান’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল প্রশাসনের আধুনিক কাঠামোকে সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার মোট ১০টি ব্লকের ২৫টি নির্দিষ্ট গ্রামকে এই অভিযানের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এই গ্রামগুলিতে জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের বেশি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। ১৮ মে থেকে ২৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত এই গ্রামগুলিতে নিবিড় জনসংযোগ ও পরিষেবা প্রদান কর্মসূচি চলবে। আউসগ্রাম-১, আউসগ্রাম-২, ভাতার, বর্ধমান-২, গলসি-২, জামালপুর, কালনা-২, মেমারি-১, মেমারি-২ এবং পূর্বস্থলী-২ ব্লকে এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে।

জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, এই ক্যাম্পগুলির মূল গুরুত্ব হল পরিষেবা প্রাপ্তিতে গতি আনা। বিশেষ করে জাতিগত শংসাপত্র প্রদান, কৃষি সংক্রান্ত নানাবিধ সহায়তা এবং রেশন কার্ড বা খাদ্য সরবরাহ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে এই ক্যাম্পগুলি আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে। প্রতিটি ক্যাম্পে ‘জনশুনানি’-র বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে নাগরিকরা সরাসরি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে তাঁদের অভিযোগ বা অভাব-অভিযোগ জানাতে পারবেন। এই অভিযোগগুলি তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণ করে দ্রুত সমাধানের রূপরেখা তৈরি করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন।

স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এই অভিযানের জন্য একটি বিশেষ ডিজিটাল পোর্টাল চালু করা হয়েছে। প্রতিদিনের ক্যাম্পের যাবতীয় কার্যক্রম, কতজন সুবিধাভোগীকে পরিষেবা দেওয়া হল এবং জমা পড়া আবেদনের স্থিতাবস্থা রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে ওই পোর্টালে আপলোড করা হবে। আগামী ২৪ ও ২৫ মে ২০২৬ তারিখে সামগ্রিক মূল্যায়ন ও ডিব্রিফিং পর্ব অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অভিযানের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

See also  গলসীতে বালি বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের, উত্তেজনা

শুধুমাত্র সরকারি নথিপত্র নয়, এই অভিযানের মানবিক দিক হিসেবে প্রতিটি ক্যাম্পে স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় স্থানীয় স্তরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের এই সুসংহত উদ্যোগ প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক কর্মসূচি নয়, বরং গণতন্ত্রের অন্তিম সারিতে থাকা মানুষের কাছে ভরসা পৌঁছে দেওয়ার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---