ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,জামালপুর: পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভার বিধায়ক অরুণ হালদার বেআইনি টোল আদায় এবং যান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত ফেরিঘাটের অনিয়ম নিয়ে আবারও সোচ্চার হয়েছেন। জামালপুরে PWD-র সেতু থেকে অবৈধ টোল আদায়ের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পর, এবার তাঁর নিশানায় দামোদর নদের উপর অবস্থিত শম্ভুপুর ফেরিঘাট। বিধায়ক সরাসরি ফেরিঘাটের ঠিকাদারকে ফোন করে সরকারি নিয়ম মেনে ফেরি চালানোর এবং সঠিক ভাড়া আদায়ের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

শম্ভুপুর ফেরিঘাট পূর্ব বর্ধমানের বড়শূল থেকে জামালপুরের বেরুগ্রামের মধ্যে অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। দামোদর নদের এই অংশে একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু রয়েছে, যেখান দিয়ে প্রতিদিন চার চাকা থেকে শুরু করে বাইক, সাইকেল এবং অসংখ্য মানুষ পারাপার করে। এর জন্য প্রতিনিয়ত মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়, যা সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এই ব্যাপক জনভোগান্তির খবর পেয়ে জামালপুর বিধানসভার বিধায়ক অরুণ হালদার এদিন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঘাটের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের করা হুঁশিয়ারি দিয়ে বিধায়ক বলেন, “আগামীকালের মধ্যেই সরকারি যে নিয়ম রয়েছে, সেই নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেকটি গাড়ির কাছ থেকে টাকা নিতে হবে। তার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশিকা মত নোটিশ টাঙাতে হবে ফেরিঘাটের অফিসে। তা না হলে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, দামোদর নদের একদিকে জামালপুর ব্লকের শম্ভুপুর এবং অন্যদিকে বর্ধমান ২ নং ব্লকের বড়শূল। এই দামোদর নদ, যা একসময় ‘বাংলার দুঃখ’ নামে পরিচিত ছিল, তা আজ নানা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে বয়ে চলেছে। নদীর গতিপথ নিয়ন্ত্রণে একাধিক ব্যারেজ তৈরি হওয়ায় তার সেই ভয়ংকর রূপ কিছুটা ম্লান হলেও, জামালপুর ব্লকের বেরুগ্রাম অঞ্চলের একাধিক গ্রামবাসীর কাছে দামোদর আজও সীমাহীন দুঃখেরই আরেক নাম। একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতুর অভাবে বছরের পর বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশ ও কাঠের তৈরি অস্থায়ী নড়বড়ে সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার চলে। আর বর্ষা এলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক ও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে, তখন উত্তাল নদীতে একমাত্র ভরসা হয় নৌকা, যেখানে প্রতিদিন প্রাণহানির আশঙ্কা নিয়েই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে নদী পার হতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই শম্ভুপুর ফেরিঘাটটি শুধুমাত্র জামালপুর ব্লক নয়, পাশের রায়না ব্লকেরও একাধিক গ্রামের কাছে জীবনরেখা। মহকুমা বা জেলা শহর বর্ধমান পৌঁছানোর এটাই সবচেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত পথ। প্রশাসনিক কাজ হোক কিংবা জরুরি চিকিৎসায় হাসপাতালে যাওয়া— প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে এই অস্থায়ী সেতুর উপর নির্ভর করতে হয়। অথচ স্বাধীনতার এত বছর পরেও এখানে কোনো স্থায়ী সেতু গড়ে ওঠেনি। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, অবিলম্বে এখানে একটি পাকা কংক্রিটের ব্রিজ তৈরি করা হোক।
জনগণের এই দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও দাবির মুখে এবার কিছুটা আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। শম্ভুপুর ফেরিঘাট পরিদর্শনে এসে নবনির্বাচিত বিধায়ক অরুণ হালদার বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাধারণ মানুষকে স্থায়ী সেতুর বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। বিধায়কের এই আশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, স্থানীয় বাসিন্দারা এখনই উচ্ছ্বাসে ভাসতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, এর আগেও বহুবার শুধু আশ্বাসই মিলেছে, কাজের কাজ কিছু হয়নি। এবার নবনির্বাচিত বিধায়কের হাত ধরে সত্যিই দামোদরের উপর একটি পাকা ব্রিজ তৈরি হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








