ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: ফের দামোদরের জলে তলিয়ে মৃত্যু হলো এক দশম শ্রেণির কিশোরের। নদীভাঙন এলাকায় ঘুরতে গিয়ে গিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে কিশোরটি বলে স্থানীয়দের অনেকে জানিয়েছেন। বুধবার গৈতানপুর-চরমানার ফরেস্ট সংলগ্ন নদীভাঙন এলাকায় কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে এসে নদীতে পড়ে তলিয়ে যায় ১৫ বছর বয়সী কিশোর রাজবীর কুন্ডু (রাজিব)। ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। দুপুরের দিকে উদ্ধারকারী দল রাজীবের নিথর দেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত রাজবীর কুন্ডু বর্ধমান শহরের লক্ষ্মীপুর জোড়া মন্দির, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সে সেন্ট পলস স্কুলের (St. Paul’s School) দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। বুধবার সে চরমানার ফরেস্ট সংলগ্ন নদীভাঙন এলাকার কাছাকাছি গেলে আচমকাই নদীতে পড়ে স্রোতের টানে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন উদ্ধারকাজে হাত বাড়ায়। বুধবার সারাদিন নদী ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেও রাজবীরের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও স্থানীয় মানুষজন এবং প্রশাসনের বিপর্যয় মোকাবিলা দলের যৌথ উদ্যোগে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। কিন্তু নদীতে দ্রুত স্রোত থাকার কারণে তল্লাশি চালাতে বেগ পেতে হয় উদ্ধারকারীদের। কিশোরের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। অবশেষে রাজবীরের নিথর দেহ উদ্ধারের সাথে সাথেই পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বর্ষার মরসুমে নদীভাঙন এবং বিপজ্জনক সংলগ্ন এলাকাগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এলাকাবাসীদের অনেকেই জানিয়েছেন, যত্রতত্র বালি কাটার ফলে এবং মাটির ধস ও নদীর তীব্র স্রোত যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ডেকে আনতে পারে। স্থানীয় লোকজন বারবার নদীর ধারেকাছে বহিরাগত লোকজনকে যেতে নিষেধ করা সত্ত্বেও অনেকেই সেইসব কথায় কান দেয় না। ফলে বারবার এই এলাকায় নদীতে তলিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার ঘটছে। গত সপ্তাহেও এই এলাকায় এক নাবালকের ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের এই এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো উচিত এবং নিয়মের ক্ষেত্রে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা উচিত।








