ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার গঠনের পর এখনও সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠিত হয়নি, কিন্তু এর মধ্যেই একাধিক নদনদীর বালিঘাট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক, যুব এবং মণ্ডল সভাপতিদের একাংশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। দুর্নীতি, কাটমানি ও সিন্ডিকেটরাজের বিরুদ্ধে বীতশ্রদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে জনমত পোষণ করে বিজেপিকে বিপুলভাবে ক্ষমতায় এনেছে। আর এরই মধ্যে নতুন সরকারের জনপ্রতিনিধিদের এমন আচরণে মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

পূর্ব বর্ধমানের গলসি, ভাতার, বর্ধমান, খন্ডঘোষ, রায়না, জামালপুর, মেমারি সহ বিভিন্ন বিধানসভা এলাকার সাধারণ মানুষের অনেকেই অভিযোগ করছেন যে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই শাসকদলের দাপাদাপি, হম্বিতম্বি এবং ভয় দেখানোর সংস্কৃতি আবার চালু হয়ে গেছে। যদিও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব বারবার বলেছেন যে এই ধরনের কার্যকলাপ দলের নির্দেশ অমান্য করে চলছে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এক-আধ জন বিধায়ক এবং দলের দায়িত্বে থাকা কার্যকর্তারা নিজেদের খুশিমতো ‘ঘুঁটি’ সাজাতে শুরু করে দিয়েছেন।

সাধারণ মানুষের দাবি, জনপ্রতিনিধিদের এলাকার নানান সমস্যা সমাধানে ও উন্নয়নের দিকে (যেমন রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা, আলো, বর্ষার সময়কার দুর্দশা মোকাবিলা) নজর দেওয়া উচিত। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি উপেক্ষিত থাকছে। এর পরিবর্তে, বালির দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে হঠাৎ করে বিজেপির বিধায়কদের একাংশের অতি উৎসাহ কেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পূর্ব বর্ধমানের একাধিক বিধানসভার বিধায়কদের বালিঘাটের বিষয়ে মন্তব্য এবং বালির দাম কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে পোস্ট সাধারণ মানুষের নজর কাড়ছে এবং এতে নতুন সরকারের নতুন জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে বলেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।

বৈধ বালি ইজারাদাররা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বালির দাম নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে বেসরকারি কারোর হস্তক্ষেপ বৈধ নয়। প্রশাসনিকভাবে আলোচনার ভিত্তিতেই দাম নির্ধারণ হতে পারে। যদিও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও বালির দাম বিষয়ক কোনো নির্দেশিকা জারি করা হয়নি, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির অনেক নেতা বালির দাম কী হবে তা নিয়ে পোস্ট করে চলেছেন। ইজারাদাররা আরও জানিয়েছেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে কোটি কোটি টাকা দিয়ে নদীর নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বালি উত্তোলনের অনুমোদন নিতে হয়। এতে এক সিএফটি বালির দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকায় পৌঁছায়। অন্যান্য খরচ ধরে যা প্রায় ৩৩ টাকা থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত হয়। অর্থাৎ, ১০০ সিএফটি বালির দাম ঘাট থেকে বেরোনোর আগেই দাঁড়ায় ৩৩০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। এরপর পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়। কিন্তু হঠাৎ করে ১০০ সিএফটি বালির দাম ১২০০ টাকা করার দাবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু হয়েছে, যা বৈধ ইজারাদারদের পক্ষে দেওয়া কার্যত অসম্ভব।
তবে, ইজারাদারদের অনেকেই জানিয়েছেন যে, যদি সরকারি আবাস যোজনার ঘর তৈরির জন্য প্রশাসন নির্দিষ্ট পদ্ধতি তৈরি করে এবং সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দামে বালি বিক্রি করার নির্দেশ দেয়, তাহলে তাদের সমস্যা হবে না। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বালির ঘাট ও বালির দাম নিয়ন্ত্রণে হঠাৎ করে এই অতি উৎসাহ দেখানোর বিষয়টিকে সাধারণ মানুষ খুব ভালো চোখে দেখছে না বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মত। এই পরিস্থিতি নতুন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, যেখানে স্বচ্ছতা ও জনসেবার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক স্পষ্ট হচ্ছে।








