ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,জামালপুর: শারদোৎসবের আনন্দ যখন চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে, তখনই মহাসপ্তমীর সকালে এক অসাধারণ মানবিকতার ছবি দেখল গ্রামীণ জনপদ। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে সর্বদা পাশে থাকা পরিচিত গ্রামীণ চিকিৎসক প্রিজুস কান্তি ঘোষ আবারও প্রমাণ করলেন যে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি মানবসেবাই তাঁর মূল ব্রত।

মহাসপ্তমীর সকালে প্রিজুস বাবুর ডিসপেন্সারিতে কোনো অসুস্থ রোগী নয়, এসেছিলেন এক ষাট-সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা, কেবল একটি নতুন শাড়ির আশায়। উৎসবের দিনে নতুন বস্ত্রের এই আকুতি চিকিৎসক প্রিজুস বাবুকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। দোকান খোলার জন্য দীর্ঘক্ষণ তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। অবশেষে দোকান খুলতেই বিন্দুমাত্র দেরি না করে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী একটি নতুন শাড়ি কিনে তা সস্নেহে ওই বৃদ্ধার হাতে তুলে দেন। সপ্তমীর পুণ্য প্রভাতে নতুন বস্ত্র পেয়ে বৃদ্ধার মুখে ফুটে ওঠে এক অনাবিল আনন্দ ও তৃপ্তির হাসি।
উল্লেখ্য, চিকিৎসক প্রিজুস কান্তি ঘোষ স্থানীয় ‘পাড়াতল স্বামী বিবেকানন্দ সেবাশ্রম’-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। সম্প্রতি মহালয়ার শুভ তিথিতে ওই সেবাশ্রমের উদ্যোগে স্থানীয় প্রবীণ ও দুঃস্থ মানুষদের মাঝে শাড়ি, ধুতি, লুঙ্গি, প্যান্ট ও শার্ট বিতরণ-সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। চিকিৎসকের এই অনন্য উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়তেই এলাকা জুড়ে প্রশংসার জোয়ার বয়ে চলেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা সবাই তাঁর এই কাজকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক অরুণ হালদার গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “সমাজে পিছিয়ে পড়া অসহায় মানুষের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই তো আমাদের মূল দায়িত্ব। আমরা যারা জনপ্রতিনিধি কিংবা চিকিৎসক হিসেবে কাজ করি, তাদের প্রত্যেকেরই উচিত সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো।” এই সুন্দর ও মানবিক কাজের জন্য তিনি প্রিজুস কান্তি ঘোষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। উৎসবের মরশুমে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি প্রিজুস বাবুর মতো মানুষের এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবিকতা যেন উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা সমাজের সকল স্তরে মানবতাবোধকে আরও উজ্জীবিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।








