সৌরীশ দে, বর্ধমান: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব এবার সরাসরি অনুভূত হল পশ্চিমবঙ্গের আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক ধর্মীয় স্থানের পর এবার বর্ধমান শহরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলা মন্দিরের প্রাত্যহিক ভোগ প্রসাদ বিতরণের কর্মসূচি আগামীকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। মূলত ভোগ রান্নার অত্যাবশ্যকীয় উপাদান তথা বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের অপ্রতুলতার কারণেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে মন্দিরের ট্রাস্ট বোর্ড। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকটের জেরে স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


মন্দির ট্রাস্ট বোর্ডের প্রবীণ সদস্য সঞ্জয় ঘোষ এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করে জানিয়েছেন যে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ জন ভক্তের জন্য মন্দিরে নিষ্ঠার সঙ্গে অন্নভোগ রান্নার আয়োজন করা হয়। এই বিশাল কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করতে প্রতিদিন অন্তত চারটি বৃহৎ গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। তবে সংশ্লিষ্ট গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা পর্যাপ্ত সিলিন্ডার সরবরাহ করতে সম্পূর্ণ অক্ষম। সরবরাহ শৃঙ্খলে এই আকস্মিক ব্যাঘাতের ফলে মন্দিরের চিরাচরিত প্রথা মেনে অগণিত ভক্তের জন্য ভোগ রান্নার ব্যবস্থা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পরিস্থিতি পুনরায় স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভক্তদের জন্য সাধারণ প্রসাদ বিতরণ স্থগিত থাকবে। তবে শাস্ত্রীয় নিয়ম রক্ষার্থে কেবলমাত্র মা সর্বমঙ্গলার দৈনন্দিন নিজস্ব নিবেদন বা মায়ের ব্যক্তিগত ভোগের আয়োজনটুকু সীমিত পরিসরে চালু রাখা হবে। আগামীকাল থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় জনমানসে এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং পুনরায় কবে নাগাদ প্রসাদ বিতরণ স্বাভাবিক হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।










