ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, খন্ডঘোষ: পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। দলের দীর্ঘদিনের কর্মী, ব্লক সভাপতি এবং জেলা পরিষদের একাধিক কর্মাধ্যক্ষ নবীনচন্দ্র বাগের পুনঃমনোনয়নের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন। প্রার্থী বদলের দাবিতে উত্তাল হয়েছিল খণ্ডঘোষের রাজপথ। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্থানীয় সেই দাবিকে কার্যত গুরুত্ব না দিয়ে নবীনচন্দ্র বাগের উপরেই আস্থা বজায় রাখে। নেতৃত্বের সেই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে রবিবার খণ্ডঘোষে এক বিশাল শক্তি প্রদর্শন করলেন ঘাসফুল শিবিরের এই প্রার্থী। প্রার্থীর কার্যালয় থেকে থানা মোড় পর্যন্ত আয়োজিত এই মিছিলে সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এদিনের মিছিলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন, যা এলাকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


মিছিলের পর থানা মোড়ে আয়োজিত পথসভায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রার্থী নবীনচন্দ্র বাগ বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথমেই জওয়ান সিনেমায় শাহরুখ খানের জনপ্রিয় ডায়লগ ‘ কুর্শি কি পেটি বাঁধ লিজিয়ে, মৌসম বিগার নে ওয়ালা হ্যায় ‘ দিয়ে শুরু করেন। পড়ে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, গাছের যে ডালে বসে আছেন, সেই ডাল কাটার চেষ্টা করলে মূল সমেত উপরে যাবে ‘। গত কয়েক দিন ধরে দলের অভ্যন্তরে যে বিরোধিতার সুর শোনা যাচ্ছিল, এদিনের জনসমাবেশ যেন তার যোগ্য জবাব দিল বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ব্লক পর্যায়ের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা নবীনচন্দ্র বাগের বিরোধিতা করলেও রবিবারের মিছিলে সাধারণ কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল নজরকাড়া। ব্লকের বিধায়ক কার্যালয় থেকে থানা মোড় পর্যন্ত পরিক্রমাকালে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। মিছিলটি এক সময় উৎসবে রূপ নেয়, যা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা একে আগাম বিজয় মিছিলের সাথে তুলনা করছেন। প্রার্থী নিজে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে গিয়ে জনসংযোগ সারেন এবং উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই প্রার্থীর সমর্থনে এদিন যেভাবে মানুষ পথে নেমেছে, তা বিরোধীদের কিছুটা হলেও চাপে রাখবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে দলের ভেতরের সেই একাংশের ক্ষোভ কি সম্পূর্ণ প্রশমিত হয়েছে? খোদ দলীয় নেতাদের যে বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, তার প্রভাব কি ব্যালট বক্সে পড়বে? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মিছিলে ভিড় হলেও ভোটের অংক সবসময় আলাদা হয়। যদিও আজকের এই জনসমাবেশ প্রমাণ করেছে যে, স্থানীয় স্তরে দ্বন্দ্ব থাকলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তৃণমূল কর্মীরা নির্বাচনের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। খণ্ডঘোষের এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে নবীনচন্দ্র বাগের ভবিষ্যৎ এখন ভোটারদের হাতে।

আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হবে। সেই দিনই স্পষ্ট হবে যে, বিরোধিতার কাঁটা সরিয়ে নবীনচন্দ্র বাগ কি পুনরায় জয়লাভ করতে পারবেন, নাকি অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুবিধা অন্য কোনও দল পেয়ে যাবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নবীনচন্দ্র বাগ আত্মবিশ্বাসী হলেও নির্বাচনের ময়দানে লড়াই যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট। তবে রবিবারের এই জনজোয়ার তৃণমূল শিবিরকে এক নতুন অক্সিজেন জুগিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই বিশাল মিছিলের উদ্দীপনা শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়। খণ্ডঘোষের রাজনীতির মোড় কোন দিকে ঘোরে, তা জানতে এখন জেলাবাসী অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছেন।










