ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: বর্ধমানের গোলাপবাগ মোড়ে স্কুটির ডিকি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নাটকীয় মোড় নিল পুলিশি তদন্ত। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শ্রীকান্ত দাস (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশি জেরায় ধৃত অভিযুক্ত স্বীকার করেছে, খাগড়াগড়ের বাসিন্দা জনৈক জুয়েল আহমেদ তাকে ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি স্কুটির মধ্যে রাখার জন্য দিয়েছিল। ইতিমধ্যেই জুয়েল আহমেদকে ধরতে জোর তল্লাশি শুরু হয়েছে। ধৃত শ্রীকান্ত দাসকে রবিবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে তদন্তের স্বার্থে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত এবং পরবর্তী পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে জনমানসে একাধিক প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। স্কুটিতে যে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা আছে, সেই খবর পুলিশকে কে বা কারা দিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়। কেনই বা এক তরুণী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও একজন চাকরিপ্রার্থী যুবককে প্রকাশ্য জনবহুল রাস্তা থেকে পুলিশের গাড়িতে থানায় নিয়ে যাওয়া হলো এবং পরে ছেড়েও দেওয়া হলো—এই পুলিশি অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা এবং ভুক্তভোগীর পরিবার।
তরুণী পরীক্ষার্থীর দিদিমা লক্ষ্মী পাল জোরালো ভাষায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ‘স্কুটির ডিকিতে বন্দুক উদ্ধারের ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো। শত্রুতা করে কেউ এই বন্দুক গাড়িতে রেখে দিয়েছে। আমার নাতনি ও হবু জামাই সম্পূর্ণ নির্দোষ, ওদের বিপদে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।’ পরিবারের দাবি, পুলিশ কীভাবে জানল যে স্কুটারের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে? তবে কি ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে পুলিশের একাংশের কোনো যোগসাজশ রয়েছে? মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই অস্ত্র ছাত্রীর ব্যবহার করা স্কুটারে রাখা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এই ঘটনায় উঠে আসছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পরিবারের আশঙ্কা, অভিযুক্তরা দীর্ঘ দিন ধরে ওই ছাত্রীকে অসৎ কাজে নামানোর চেষ্টা করছিল, যা তিনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। সেই আক্রোশ এবং ছাত্রীটি যাতে বিয়ে করে অন্য জেলায় চলে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই জঘন্য ষড়যন্ত্র। এই প্রেক্ষাপটে নারী পাচার ও দেহব্যবসা চক্রের যোগসাজশ থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।








