ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, বর্ধমান: একজন সাধারণ গাড়িচালকের সজাগ দৃষ্টির সুবাদে বর্ধমানে একটি বড় জাল নোট চক্রের পর্দাফাঁস হলো। মঙ্গলবার রাতে বর্ধমান থানার পুলিশ বাজেপ্রতাপপুর এলাকা থেকে একটি ভাড়া করা গাড়ি থেকে ২০০টি জাল ৫০০ টাকার নোট উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক মহিলা-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরের আলুডাঙা মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা শেখ লালন সোমবার (১২ অক্টোবর, ২০২৬) ভাতার ব্লকের বলগোনা যাওয়ার জন্য শেখ আতারুল হক নামে এক গাড়িচালককে ফোন করেন। যাতায়াতের জন্য ২০০০ টাকার ভাড়া নির্ধারিত হয়। আতারুল পুলিশকে জানিয়েছেন, পথে টোটোন শেখ নামে আরও একজন তাঁদের গাড়িতে চাপে। বলগোনার কাজ সেরে ফেরার পথে লালন বাজেপ্রতাপপুর এলাকায় গাড়ি থামাতে বলেন এবং ভাড়া বাবদ আতারুলকে চারটি ৫০০ টাকার নোট দেন। নোটগুলি হাতে নিতেই আতারুলের সন্দেহ হয়, কারণ চারটি ৫০০ টাকার নোটের নম্বর একই ছিল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িটিতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে গাড়িতে থাকা জাসমিন বিবির ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ২০০টি জাল ৫০০ টাকার নোট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া নোটগুলির মধ্যে ১৬০টির নম্বর এক হলেও, বাকি ৪০টি নোটের নম্বর আলাদা ছিল। চালক আতারুলের কাছে দেওয়া চারটি জাল নোটও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গাড়ির আরোহীরা অসঙ্গতিপূর্ণ উত্তর দেওয়ায় পুলিশ তাদের সকলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে গাড়ির মালিক ও চালক আতারুল হক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শেখ লালন, তাঁর স্ত্রী জাসমিন বিবি এবং টোটন শেখকে জাল নোট পাচার ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করে।
আজ অর্থাৎ বুধবার ধৃতদের বর্ধমান সিজেএম আদালতে তোলা হয়। আদালতে পুলিশ এই চক্রে আরও কারা জড়িত, কোথা থেকে এই জাল নোট ছাপা হতো এবং কীভাবে সেগুলি বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হতো, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের জন্য ধৃতদের সাতদিনের পুলিশি হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানায়। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই বিপুল পরিমাণ জাল নোটের উৎস এবং বাজারজাতকরণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা চলছে। এদিকে এই ঘটনা পুজোর আগে জাল নোট চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ৫০০ টাকার জাল নোটের প্রচলন বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল, যেটা অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।








