ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারকার্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভুয়ো খবরের দাপট নিয়ন্ত্রণে আনতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার থেকে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সাথে তাদের সমস্ত সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হলফনামায় স্পষ্ট উল্লেখ করতে হবে যে প্রার্থী কোন কোন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন এবং সেখানে প্রচারের প্রকৃতি কী রূপ হবে। ডিজিটাল দুনিয়ায় নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষত, ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহার ও সমাজমাধ্যমের বিজ্ঞাপনের জন্য নির্দিষ্ট অর্থ খরচ বেঁধে দিয়েছে কমিশন, যা ভোট পরবর্তী সময়ে নিবিড়ভাবে নিরীক্ষণ করা হবে।


কমিশনের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, যে কোনো ধরনের ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটির (MCMC) পূর্ব অনুমোদন গ্রহণ করা আবশ্যক। অনুমোদন ছাড়া সমাজমাধ্যম বা ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন প্রদান করা হলে তা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খরচের খতিয়ানে বলা হয়েছে, প্রতিটি ইন্টারনেট সংযোগের জন্য ২৮ দিনে সর্বাধিক ২৯৯ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং সেট-টপ বক্সের জন্য দেড় হাজার টাকা। এমনকি ফেসবুক, এক্স (প্রাক্তন টুইটার) বা ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের জন্য দৈনিক খরচের সীমা দেড় হাজার টাকায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, যা ডিজিটাল প্রচারের আকাশছোঁয়া খরচকে নিয়ন্ত্রণে আনবে।
তৃণমূল স্তরের প্রচারের ক্ষেত্রেও কমিশন অত্যন্ত খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর খরচের ঊর্ধ্বসীমা ধার্য করেছে। নির্বাচনী মিছিলে অংশ নেওয়া কর্মীদের চা-জলখাবারের খরচ থেকে শুরু করে যানবাহনের ভাড়ার তালিকাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রতি কাপ চায়ের জন্য ৫ টাকা, নিরামিষ থালির জন্য ৫০ টাকা এবং খাসির মাংসের খাবারের জন্য ২৫০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। মুড়ি-সিঙাড়ার মতো সাধারণ জলখাবারের খরচও ১৫ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পরিবহনের ক্ষেত্রে টোটো বা ভ্যানের দৈনিক ভাড়া ৬০০ টাকা এবং ট্রাক্টরের ভাড়া ৭৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ব্যয় করা হলে প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
তবে কমিশনের এই তালিকার বাস্তব ভিত্তি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক রাজনৈতিক দল ও নির্দল প্রার্থীদের দাবি, বর্তমান বাজারদরের তুলনায় কমিশনের নির্ধারিত মূল্য অত্যন্ত নগণ্য। বিশেষত বড় রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে অঘোষিত উপায়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ উঠছে প্রতিনিয়ত। ছোট দলগুলির প্রশ্ন, কমিশন এই খরচের হিসাব কতটা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে পারবে এবং বাস্তবক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ কতটা কার্যকর হবে? আপাতত প্রচারের প্রতিটি পদক্ষেপে নজরদারি বাড়াতে কমিশন বদ্ধপরিকর এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কলঙ্কমুক্ত রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।








