ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, মেমারি: নীল-সাদা বেলুন, তৃণমূল কংগ্রেসের ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা এবং গগনভেদী স্লোগানের আবহে বৃহস্পতিবার মেমারি বিধানসভা কেন্দ্র এক অভাবনীয় জনসমাগমের সাক্ষী থাকল। আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী রাসবিহারী হালদারের সমর্থনে প্রচার অভিযানে অংশ নিয়ে ফের একবার নিজের জনপ্রিয়তার স্বাক্ষর রাখলেন সাংসদ তথা অভিনেতা দেব। মেমারির গন্তারের মাঠ এদিন আক্ষরিক অর্থেই সাধারণ মানুষের দখলে চলে গিয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের থেকে কিছুটা দেরিতে হলেও যখন এই তারকা সাংসদ হেলিকপ্টার থেকে নেমে মঞ্চের দিকে এগোতে শুরু করেন, তখন উপস্থিত জনতার উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রিয় তারকাকে একঝলক দেখার জন্য এবং মুঠোফোনে সেই মুহূর্ত বন্দী করতে সভাস্থলের চারপাশে ছিল উপচে পড়া ভিড়। প্রার্থীর পক্ষে এই জনসমর্থন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।


এদিন মঞ্চে দেবের পাশে দাঁড়িয়ে হাতজোড় করে মানুষের আশীর্বাদ গ্রহণ করতে দেখা যায় প্রার্থী রাসবিহারী হালদারকে। দেবের উপস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচার মুহূর্তের মধ্যেই এক অকাল উৎসবে পরিণত হয়। এদিন সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সংযত ও কৌশলী বার্তা দেন সাংসদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, তিনি কেবল ভোট প্রার্থনা করতে আসেননি, বরং রাসবিহারী হালদারের জন্য সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ ও সমর্থন নিশ্চিত করতে এসেছেন। দেবের এই জনসংযোগ পদ্ধতি উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে, যা তাঁর রাজনৈতিক পরিপক্কতারই পরিচায়ক বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে কোনো বিরোধী পক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে দেব এদিন গণতান্ত্রিক অধিকার এবং রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের উপরেই সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি এক বিশেষ আবেদন রেখে বলেন যে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে তিনি অনুরোধ করেন, ভোটদানের পূর্বে গত কয়েক বছরে বাংলার বুকে যে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, তা যেন সাধারণ মানুষ একবার বিবেচনা করে দেখেন। তাঁর এই ইতিবাচক ও গঠনমূলক বার্তা নির্বাচনী ময়দানে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কোনো বিতর্কিত মন্তব্য না করেও যে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা যায়, দেবের প্রচার কৌশল তারই প্রমাণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত অনুযায়ী, মেমারিতে এই বিপুল জনসমাগম তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষত যুবসমাজের মধ্যে দেবের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ভোটবাক্সে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সভা সমাপ্ত হওয়ার পরেও মেমারির আকাশ-বাতাস ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত ছিল। দেব এলাকা ত্যাগ করলেও তাঁর অমায়িক ব্যবহার এবং উন্নয়নের আহ্বান মেমারির চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়ার মোড় পর্যন্ত আলোচনার মূল কেন্দ্রে উঠে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই প্রচার অভিযান সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে শাসক দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হতে পারে।








