ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: রবিবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আগামী নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আর তারপর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে সোমবার ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি মূল গেটের তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন দলেরই একাংশ কর্মী-সমর্থক। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের অভিযোগ, জেলার মন্ত্বেশ্বর, বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর ও খন্ডঘোষ আসনে ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় এমন ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে যাঁরা সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস বা ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত। এই প্রার্থী নির্বাচনকে ঘিরে দলের অন্দরে যে তীব্র অসন্তোষ জমা হয়েছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটল রবিবারের এই নজিরবিহীন ঘটনায়। জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন স্থানীয় কর্মীরা।


বিক্ষোভকারীদের দাবি অনুযায়ী, এবারের প্রার্থী তালিকায় যাঁদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেরই পরিবারের সদস্য তৃণমূল চালিত পঞ্চায়েতের সদস্য অথবা বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। তাঁদের অভিযোগ, দলের দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ কর্মীদের বঞ্চিত করে বহিরাগত এবং অন্য দল থেকে আসা ব্যক্তিদের টাকার বিনিময়ে টিকিট পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের কথায়, ‘যাঁরা সারা বছর দলের জন্য ঘাম ঝরাননি, বিপদের দিনে পাশে থাকেননি, আজ তাঁদেরই প্রার্থী হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দলের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে এই ধরণের সিদ্ধান্ত আমরা কোনওভাবেই মেনে নেব না।’ এই ঘটনায় স্থানীয় নেতৃত্বের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে জেলা রাজনৈতিক মহলে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রবীণ কর্মী আক্ষেপের সুরে জানান, টাকার বিনিময়ে প্রার্থী করার এই প্রবণতা কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তাঁদের সন্দেহ, নেপথ্যে বড় কোনও আর্থিক লেনদেন কাজ করেছে। দাবি তোলা হয়েছে যে, অবিলম্বে এই বিতর্কিত প্রার্থী তালিকা পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কর্মীদের সুযোগ দিতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। বিক্ষোভকারীরা সাফ জানিয়েছেন যে, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে এবং প্রার্থী পরিবর্তন না করা হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। যদিও জেলা নেতৃত্ব এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেনি।








