ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,জামালপুর: পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লকের অন্তর্গত বেড়ুগ্রাম অঞ্চলের ১৭ নম্বর বুথ শালিমডাঙ্গা গ্রামে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রকাশিত ওই তালিকা থেকে গ্রামটির মোট ২১৯ জন বাসিন্দার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই গণ-নাম বাতিলের ঘটনা জানাজানি হতেই গতকাল থেকে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল, যা আজ রবিবার শালিমডাঙ্গা সবজি বাজারে এক বিশাল গণবিক্ষোভের রূপ নেয়। শতাধিক মানুষ হাতে বৈধ নথি নিয়ে এই প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে সামিল হন। তাঁদের দাবি, কোনো প্রকার স্বচ্ছতা বজায় না রেখেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধারণ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষে মইনুর রহমান অভিযোগ করেন যে, ১৭ নম্বর বুথের ৩৩৬ জন বাসিন্দাকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, তার মধ্যে ২১৯ জনের নামই বাদ পড়েছে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় পিতার নাম নথিভুক্ত থাকলেও এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও পুত্রদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্বামী ও পিতার নাম নথিতে থাকা সত্ত্বেও বহু মহিলার নাম বাদ পড়েছে। মইনুর বাবু সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন যে, যদি কমিশন একজনকেও অবৈধ নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে পারে, তবে তিনি যেকোনো শাস্তি মেনে নেবেন।

বিক্ষোভের আঁচ আরও তীব্র হয় যখন শেখ নিজামুদ্দিন নামক এক বাসিন্দা তাঁর দুই মেয়ের উদাহরণ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, দুই কন্যার জন্য একই নথি জমা দেওয়া হলেও একজনের নাম তালিকায় উঠেছে এবং অন্যজনের নাম বাদ পড়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রাখেন, এটি কী ধরনের প্রক্রিয়া এবং এর মাধ্যমে কি তাঁর সন্তানের পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না? এমনকি তিনি প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করারও দাবি জানান। একই সুর শোনা গিয়েছে এলাকার চিকিৎসক আশরাফ হোসেনের কণ্ঠেও। তিনি জানান, সরকারি ও বেসরকারি কর্মজীবী তাঁর দুই ছেলের নাম রহস্যজনকভাবে বাদ গিয়েছে, যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং তদন্তাধীন বিষয় হওয়া উচিত।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও আসতে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খাঁন গ্রামবাসীদের এই ক্ষোভকে সঙ্গত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, জামালপুর ব্লকের তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোকেই নিশানা করে এই নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। তবে তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের পাশে রয়েছেন এবং কোনো বৈধ ভোটার যাতে তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সমগ্র শালিমডাঙ্গা এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে এবং বাসিন্দারা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।








