---Advertisement---

Auto Image Slider

কমিশনের তালিকায় নাম ‘বিচারাধীন’ আউশগ্রামের বিজেপির প্রার্থীর, কমিশন কি বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছে! বিস্ফোরক তৃণমূল

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,আউশগ্রাম: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রামে। ২৭৩ নম্বর আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে এবারও ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে কলিতা মাজির নাম। তবে এই ঘোষণাকে ঘিরেই দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় কলিতা মাজির নাম ‘বিচারাধীন’ বা ‘অ্যাডজুডিকেশন’ পর্যায়ে রাখা হয়েছে। ১৯৫ নম্বর বুথের ৩৯৭ নম্বর সিরিয়ালে থাকা প্রার্থীর নাম নিয়ে এই জটিলতা তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। ২০২১ সালের নির্বাচনেও এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি, যদিও সেবার তৃণমূল প্রার্থীর কাছে তাঁকে পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে তাঁর নথিপত্রে কিছু ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসংগতি ধরা পড়ে। এই কারণেই তাঁকে শুনানির জন্য তলব করা হয়েছিল। কলিতা মাজি নির্দিষ্ট সময়ে শুনানিতে হাজিরা দিলেও কমিশনের চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম এখনও অমীমাংসিত রয়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন খোদ প্রার্থী। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা মোট সাত বোন। বাকি ছয় বোনের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেও কেবল আমার নামই বিচারাধীন রাখা হয়েছে। আমি সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি আধিকারিকদের কাছে জমা দিয়েছি। কমিশনের কর্তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে এতে কোনও বড় সমস্যা হবে না।’ তবে খসড়া তালিকায় নাম বিচারাধীন থাকা অবস্থায় একজন ব্যক্তিকে প্রার্থী ঘোষণা করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, বিচারাধীন তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের আবেদন হয় গ্রাহ্য হবে নতুবা বাতিল হবে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই বিজেপি কীভাবে নিশ্চিত হলো যে কলিতা মাজির নাম বৈধ হবে? তাঁর দাবি, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে বিজেপির ‘তলপিবাহক’ হিসেবে কাজ করছে এবং গেরুয়া শিবিরের নির্দেশেই পরিচালিত হচ্ছে। তৃণমূলের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের মতে, এটি একটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং আইনি কোনও বাধা নেই।

See also  পূর্ব বর্ধমানে বেআইনি বালি খননের পিল খারিজ করে দিলো কলকাতা হাই কোর্ট

তদন্তাধীন এই বিষয়টি এখন নির্বাচনী লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে এই অস্পষ্টতা নির্বাচনের স্ক্রুটিনি পর্বে কলিতা মাজির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি শেষ মুহূর্তে তাঁর নাম বাতিল হয়, তবে আউশগ্রামে বিজেপিকে বড়সড় বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হবে। অন্যদিকে, তৃণমূল এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে মানুষের কাছে কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সব মিলিয়ে ভোটের আগেই আউশগ্রামের রাজনৈতিক ময়দান এখন সরগরম কলিতা মাজির এই ‘বিচারাধীন’ তকমা নিয়ে।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---