ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান ও রায়না: রাজ্যে শাসকদলের পালাবদল হয়েছে সদ্য এক মাস। আর এরই মধ্যে বিজেপি নেতাদের অন্যায় আবদারে অতিষ্ট হতে শুরু করেছে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীদের একাংশ। সেই তালিকায় যেমন একাধিক বিধায়কের যেমন নাম উঠে আসছে, পাশাপাশি স্থানীয় বেশ কিছু গেরুয়া নেতারও নাম জড়াচ্ছে। অনেকেই এই অন্যায় আবদারে সায় না দিয়ে সরাসরি ব্যবসাই বন্ধ করে রেখেছে। ফলে অনেকক্ষেত্রেই সরকারি রাজস্বের ক্ষতি হতে শুরু করেছে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।

পূর্ব বর্ধমানের গলসি থেকে জামালপুর পর্যন্ত দামোদর নদ জুড়ে রয়েছে একাধিক প্রশাসন অনুমোদিত বালি খাদান। অভিযোগ, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর থেকেই শাসকদলের বেশি কিছু নেতার দৃষ্টি ও আকর্ষণের কেন্দ্র এখন এই বালি খাদানগুলোর দিকেই বলে একাধিক এলাকা থেকে অভিযোগ উঠে আসছে।
একইসঙ্গে বালির দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও অতি সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে বেশকিছু শাসকদলের নেতাদের মধ্যে।

আর এই সুযোগে গলসি থেকে শুরু করে খন্ডঘোষ, রায়না, বর্ধমান সহ জামালপুরের দামোদর নদে বেআইনি বালির কারবাররিদের দৌরাত্ম্য শুরু হয়ে গেছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী বেআইনি বালির কারবার বন্ধে প্রশাসনের আধিকারিকদের কঠোর হতে নির্দেশ দিচ্ছেন, অন্যদিকে নিচুতলায় কিছু নেতা নিজেদের আখের গোছাতে জোর কদমে মাঠে নেমে পড়েছে। একাধিক ব্যবসায়ী থেকে স্থানীয় বহু মানুষ ইতিমধ্যেই অভিযোগ করছেন, শাসক বদল হলেও, পরিস্থিতির কিছুই পরিবর্তন হলো না। তোলাবাজি, মাফিয়ারাজ চলছে চলবে।
বালির দাম কমাতে হবে, ১২০০ টাকায় বালি দিতে হবে – বলে রীতিমত আন্দোলন বিক্ষোভ চলছে শাসকদলের পক্ষ থেকে। এদিকে পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় বাঁধগাছা এলাকার একটি ঘাট থেকে ৩৯০০ টাকা প্রতি ট্রাক্টর বালি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু ওই এলাকারই অন্যান্য ঘাট মালিকরা ১২০০ টাকায় কেনো বালি দেবে না, তারজন্য অন্যায় ভাবে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। স্বাভাবিকভাবেই বালি খাদান কর্তৃপক্ষ ব্যবসাই বন্ধ করে দিয়েছে। আর এর ফলস্বরূপ সরকারি রাজস্বের ক্ষতি বাড়ছে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মত।

স্থানীয় সূত্রের খবর, বর্ধমানের বেচরহাট মৌজায় বালি কাটার অনুমোদন থাকলেও, সেই ঘাটের ইজারাদাররা নিজেদের এলাকার বাইরে বেরিয়ে শ্রীরামপুর মৌজা থেকে দেদার বালি তুলছে। দশ চাকা, বারো চাকা, ১৬ চাকা লড়ি থেকে শুরু করে শতাধিক ট্রাক্টর নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে যেখান থেকে খুশি মেসিন দিয়ে বালি লোড করে বেরিয়ে যাচ্ছে। সেই বালি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। বর্ধমানের সদরঘাট ও রায়নার বাঁধগাছা ( ফুলবাগান) এই দুদিক দিয়েই বালির গাড়ি বের করছে ইজারাদার। প্রশাসনের নাকের ডগায় বেআইনিভাবে বালি করবার চললেও কোন অজ্ঞাত কারণে সেইসব বন্ধ করার কোন উদ্যোগ নেই বলেই অভিযোগ। ফলে একদিকে বৈধ ঘাট মালিকদের ওপর শাসকদলের চাপ, অন্যদিকে প্রশাসনের উদাসীনতা – এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে আখেরে ক্ষতি হচ্ছে সরকারি কোষাগারের বলেই মনে করছে তথ্যভিজ্ঞ মহল।
* পরবর্তী খবর আসছে শীঘ্রই *








