---Advertisement---

মেমারিতে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার সম্ভাব্য সেন যুগের প্রস্তর বিষ্ণু মূর্তি

Souris Dey

Published

সৌরীশ দে, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার অন্তর্গত দুর্গাপুর অঞ্চলের বড়র গ্রামে পুকুর সংস্কারের কাজ চলাকালীন উদ্ধার হলো একটি অতি প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ভেবারপাড় নামক একটি পুকুরে জেসিবি মেশিন দিয়ে মাটি কাটার সময় মাটির গভীর থেকে এই মূর্তিটি উঠে আসে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি সেন আমলের এবং এটি প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ বছরের পুরনো একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পুকুর সংস্কারের কার্যের সময় জেসিবি মেশিনের চালক মাটির নিচে শক্ত কোনো ধাতব বা পাথরের বস্তুর অস্তিত্ব অনুভব করেন। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মাটি সরানোর পর ধূসর-কালো রঙের প্রায় দেড় ফুট উচ্চতার একটি বিষ্ণু মূর্তি দৃশ্যমান হয়। এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসী ও উৎসাহী জনতা মূর্তিটিকে পরিষ্কার করে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্থানীয় একটি মন্দিরে সংরক্ষণ করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে মেমারি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মূর্তিটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে বিষয়টি সম্পর্কে ইতিমিধ্যেই অবগত করা হয়েছে। মূর্তিটির সঠিক সময়কাল, গঠনশৈলী এবং এটি কোন ধাতু বা পাথরে নির্মিত, তা বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণের পরই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আপাতত বিষয়টি প্রশাসনিক স্তরে তদন্তাধীন রয়েছে।

এই বিষয়ে বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ সর্বজিৎ যশ মন্তব্য করেছেন যে, সেন যুগে গোটা বাংলায় ব্রাহ্মণ্য ধর্মের এক বড়সড় পুনর্জাগরণ ঘটেছিল। সেই সময়কালে পাথরের বিষ্ণু মূর্তি পূজার ব্যাপক প্রচলন ছিল বলে ঐতিহাসিক নিদর্শন পাওয়া যায়। তাঁর মতে, উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি সেই সময়েরই তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে, এটি কষ্টিপাথর নাকি অন্য কোনো উপাদানে তৈরি, তা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার পরই নির্দিষ্ট করে বলা যাবে। এই আবিষ্কার অঞ্চলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করতে পারে বলে মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল।

See also  গলসির মসজিদপুরে বিজেপির এজেন্টের ফরম ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে
শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---