---Advertisement---

Auto Image Slider

ভোট মিটতেই ফের মেমারিতে বস্তি উচ্ছেদের নোটিশ রেলের, বিজেপির ষড়যন্ত্র বলে তোপ তৃণমূল প্রার্থী রাসবিহারীর

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,মেমারি: বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব মিটতে না মিটতেই মেমারি রেল স্টেশন চত্বরে রেলের পক্ষ থেকে উচ্ছেদের নোটিশ জারি করাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পূর্ব রেলওয়ের হাওড়া ডিভিশনের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে মাত্র দুই দিনের মধ্যে রেলের জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বসবাসকারী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এই উচ্ছেদ নোটিশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের রুটিরুজির সংস্থান হারানোর আশঙ্কায় তারা এখন দিশেহারা।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, মেমারি রেল স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও কয়েক বার অনুরূপ নোটিশ জারি করা হয়েছিল। প্রতিবারই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ডেপুটেশন অথবা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে উচ্ছেদ অভিযান সাময়িকভাবে থমকে গিয়েছিল। বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগেও একবার উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে প্রশাসনিক নির্দেশে তা স্থগিত করা হয়। তবে এবার ভোট মেটার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রেলের পক্ষ থেকে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।

শুক্রবার সকালে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মেমারি স্টেশন এলাকায় উপস্থিত হন মেমারি বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রাসবিহারী হালদার। তিনি সেখানে রেলের জমিতে অবস্থিত ব্যবসায়ীদের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেন। রাসবিহারী বাবু জানান, বিপদের সময় তিনি আইনগতভাবে তাদের পাশে থাকবেন। এরপর তিনি সরাসরি মেমারি স্টেশন মাস্টার পিনাকী শঙ্কর করের সাথে দেখা করে উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন এবং ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কথা বিস্তারিতভাবে জানান।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাসবিহারী হালদার রেল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “মেমারিবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি রেল ওভারব্রিজ। রেল কর্তৃপক্ষ সেদিকে নজর না দিয়ে উল্টে যারা ৪০-৫০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছেন, তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের নোটিশ দিচ্ছে।” তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের ঠিক পরেই এই ধরণের তৎপরতা প্রমাণ করে যে এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চক্রান্ত। এই ঘটনায় তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপিকে ‘অভিযুক্ত’ করেছেন।

See also  ট্যাব কেলেঙ্কারির ঘটনায় মালদা থেকে গ্রেপ্তার কম্পিউটার ডিপ্লোমা করা ছাত্র

বর্তমানে মেমারি স্টেশনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। একদিকে রেলওয়ের আইনি বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে কয়েক দশকের বসতি রক্ষার লড়াই এখন মেমারির রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উচ্ছেদ ইস্যু মেমারিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে যে, সরকারি জমিতে বেআইনি দখলদারি সরাতেই এই সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনত।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---