ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, মেমারী: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বর্ধমানের মেমারী বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাসবিহারী হালদারের নাম ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। এই প্রেক্ষাপটেই আজ মেমারী শহরে প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল রোড শো-তে অংশ নিলেন অভিনেত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষ। তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই রোড শো ঘিরে হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা কার্যত জনসমুদ্রের আকার ধারণ করে। মেমারীর রাজপথ যেন এদিন সবুজ আবিরে মিশে গিয়েছিল, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে শাসক দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

রোড শো চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সায়নী ঘোষ সুর চড়ান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, ভারতের নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে না এবং তারা ক্রমশ ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষাবলম্বন করছে। সায়নী ঘোষের দাবি, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তিনি বলেন, বিরোধীরা গণতান্ত্রিক উপায়ে লড়াই করতে ব্যর্থ হয়ে এখন প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। নেত্রীর এই বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, বিপুল জনসমর্থন দেখে উচ্ছ্বসিত তৃণমূল প্রার্থী রাসবিহারী হালদার জনতাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ‘আজকের এই বিশাল জনসমাগমই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে সাধারণ মানুষের ভরসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের ওপরই রয়েছে। জয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।’ তিনি আরও আশ্বাস প্রদান করেন যে, নির্বাচিত হওয়ার পর মেমারী বিধানসভা এলাকাকে সার্বিক উন্নয়নের নিরিখে রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কেন্দ্রে পরিণত করাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘক্ষণ চলা এই রোড শো-তে প্রার্থীর সাথে সায়নী ঘোষের রসায়ন এবং সাধারণ মানুষের উন্মাদনা আগামী দিনে মেমারীর নির্বাচনী লড়াইকে যে আরও তীব্র করে তুললো, তা বলাই বাহুল্য। তবে কমিশনের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলি তদন্তের আওতায় আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








