ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,মেমারি: পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি থানার অন্তর্গত দিলালপুর এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে পূরণ হতে চলেছে। ডিভিসি ক্যানেলের ওপর অবস্থিত জরাজীর্ণ ও ভগ্নপ্রায় কাঠের সেতুটির পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হলো। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রশাসনিক টালবাহানার পর অবশেষে স্থানীয় সাংসদ তহবিলের অর্থানুকূল্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি পাকা ও স্থায়ীভাবে নির্মিত হতে চলেছে।

স্থানীয় ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দিলালপুরের উন্নয়নের এই যাত্রাপথ মোটেও সুগম ছিল না। বাম জমানার দীর্ঘ ৩৪ বছর এবং বর্তমান শাসকদলের ১৫ বছরের শাসনকালে ডিভিসি ক্যানেল দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গেলেও, এই সেতুটির কাঠামোগত অবস্থার কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি। স্থানীয় সূত্রের খবর, বিগত নির্বাচনে এই সেতুর দাবিতে এলাকাবাসী ভোট বয়কটের মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতেও বাধ্য হয়েছিলেন। সেই পুঞ্জীভূত জনক্ষোভ ও ক্রমাগত দাবির প্রেক্ষিতেই এবার প্রশাসনিক তৎপরতা পরিলক্ষিত হলো।
বুধবার দুপুরে বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ড. শর্মিলা সরকার দিলালপুর ব্রিজ নির্মাণকার্যের আনুষ্ঠানিক শিলান্যাস করেন। জানা গেছে, সাংসদ তহবিলের বিশেষ অনুদানেই এই বিপজ্জনক কাঠের সেতুটি নতুন রূপ পেতে চলেছে। এই শিলান্যাস অনুষ্ঠানে সাংসদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ নিত্যানন্দ ব্যানার্জী এবং মেমারি ১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যসহ অন্যান্য বিশিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা।
সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দিলালপুর ও সংলগ্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত বর্ষাকালে যাতায়াতের যে চরম দুর্ভোগ সাধারণ মানুষকে পোহাতে হতো, তা থেকে এবার মুক্তি মিলবে। প্রকল্পটি যাতে দ্রুত ও গুণমান বজায় রেখে সম্পন্ন হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা। পুরো বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনিক নজরদারিতে রয়েছে এবং এলাকাবাসী আশা করছেন শীঘ্রই তারা নতুন সেতুর সুফল ভোগ করতে পারবেন।










