ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, খন্ডঘোষ: পূর্ব বর্ধমান জেলার খন্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক বিরল এবং নজিরবিহীন রাজনৈতিক সৌজন্যের সাক্ষী থাকলেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীরা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যখন রাজনৈতিক হিংসা বা বাদানুবাদের খবর প্রকাশ্যে আসছে, তখন খন্ডঘোষের মাটিতে দেখা গেল ভিন্ন এক চিত্র। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী নবীনচন্দ্র বাগ নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে হঠাৎই মুখোমুখি হন তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সিপিআইএম প্রার্থীর। সেই মুহূর্তে কোনো প্রকার উত্তেজনা বা স্লোগান পাল্টা-স্লোগান নয়, বরং গাড়ি থেকে সশরীরে নেমে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর দিকে এগিয়ে যান তিনি।

খন্ডঘোষের শাঁকারি ১নং অঞ্চলের অন্তর্গত দইচাঁদা থেকে কামালপুর পর্যন্ত জোরকদমে জনসংযোগ চালাচ্ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী নবীনচন্দ্র বাগ। সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসছিলেন সিপিআইএম প্রার্থী রামজীবন বাবু। দুই প্রার্থীর গাড়ি কাছাকাছি আসতেই নবীনচন্দ্র বাগ গাড়ি থামিয়ে নিচে নেমে আসেন এবং রামজীবন বাবুকে পরম শ্রদ্ধাভরে আলিঙ্গন করেন। রাজনীতির ময়দানে কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও ব্যক্তিগত এবং সামাজিক স্তরে যে মানবিক সম্পর্ক অটুট থাকে, সেই বার্তাই যেন প্রস্ফুটিত হয়েছে এই বিশেষ মুহূর্তের মধ্য দিয়ে। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এই সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে নবীনচন্দ্র বাগ সংবাদমাধ্যমকে জানান যে লড়াই হবে কেবলমাত্র ভোটের ময়দানে এবং রাজনৈতিক আদর্শের ভিত্তিতে, কিন্তু ব্যক্তিগত সৌজন্যবোধ এবং মানবিকতা সর্বদাই বজায় থাকা উচিত। তাঁর এই বক্তব্য এবং আচরণ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যখন নির্বাচনী আবহে উত্তেজনার পারদ চড়ছে, তখন এই ধরনের আচরণ কর্মীদের কাছে এক ইতিবাচক বার্তা প্রেরণ করে। সৌজন্য প্রদর্শনের পাশাপাশি এদিন শাঁকারি ১নং অঞ্চলের প্রায় ১৫টি বুথে নিবিড় প্রচার চালান তৃণমূল প্রার্থী। জনসংযোগের সময় তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী মেজাজে দাবি করেন যে এই নির্দিষ্ট এলাকা থেকেই শাসকদল সাত হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে লিড অর্জন করবে।
খন্ডঘোষের এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে দুই বিপরীত মেরুর প্রার্থীর এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ প্রমাণ করে যে গণতান্ত্রিক কাঠামোয় মতভেদ থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। নির্বাচনী রণকৌশল এবং জয়-পরাজয়ের হিসেব নিকেশের বাইরেও মানুষের সাথে মানুষের যে সম্পর্ক, তাকেই যেন বড় করে দেখালেন খন্ডঘোষের প্রার্থীরা। এখন দেখার বিষয়, প্রার্থীর এই সৌজন্যবোধ নিচুতলার কর্মীদের মধ্যেও সমানভাবে সঞ্চারিত হয় কিনা এবং আসন্ন নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়ে কি না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন মানবিক ছবি যে বিরল, তা বলাই বাহুল্য।








