---Advertisement---

স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগ! বিধায়ক ও কর্মাধক্ষ্যের বিরুদ্ধে পোস্টার ঘিরে শোরগোল ভাতারে

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,ভাতার: পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারে বর্তমান বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী এবং জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনারের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়াকে কেন্দ্র করে জেলা রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মানগোবিন্দ অধিকারীকে পুনরায় প্রার্থী না করার জোরালো দাবি জানিয়ে ভাতার বাজার, কামারপাড়া মোড় এবং নতুন বাসস্ট্যান্ড সহ এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই পোস্টারগুলি দেখা গিয়েছে। ‘ভাতারের এলাকাবাসীবৃন্দ’-এর নামাঙ্কিত এই পোস্টারগুলিতে বিধায়কের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ এবং অযোগ্যতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনারকে ‘বিজেপির দালাল’ এবং ‘তোলাবাজ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যা তৃণমূলের অন্দরের কোন্দলকেই যেন আরও একবার জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিল।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন ধরেই ভাতারে শাসক দলের অন্দরে গোষ্ঠী কোন্দল সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে প্রাক্তন বিধায়ক বনমালী হাজরা এবং বর্তমান বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারীর অনুগামীদের মধ্যে বিভাজন গত কয়েক বছরে চরম আকার ধারণ করেছে। একাধিকবার দুই পক্ষের মিটিং-মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই বনমালী হাজরার অনুগামীরা সামাজিক মাধ্যমে বিধায়কের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। পোস্টারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বর্তমান নেতৃত্ব প্রবীণ ও সংখ্যালঘু মানুষদের যথাযথ সম্মান প্রদান করেন না এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, দলের একটি অংশ কি আগামী নির্বাচনে নতুন মুখ চাইছে? যদিও বিধায়ক নিজে এই অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ।

পোস্টার বিতর্ক প্রসঙ্গে বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে বিরোধীদের চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান যে, যারা এই পোস্টার দিয়েছে তারা আদতে তৃণমূল কংগ্রেসের কেউ নয়; বরং তারা বিরোধী দল কংগ্রেস, বিজেপি এবং সিপিএমের লোক। তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন যে, ‘রাস্তা দিয়ে হাতি গেলে কুকুর ঘেউ ঘেউ করে’, এবং এতে তার বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক দুশ্চিন্তা নেই। তার মতে, যারা স্বজনপোষণের কথা বলছেন, তাদের নিজেদের অতীত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি এই ঘটনাকে নগণ্য বলে উড়িয়ে দিলেও, খোদ বিধায়কের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে পোস্টার পড়া শাসক শিবিরের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

See also  বর্ধমানে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় এক শিশু সহ দুজনের মৃত্যু, ভাঙচুর, আটক এক

এই বিষয়ে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস সর্বদা মানুষের পাশে থাকে এবং যারা জনবিচ্ছিন্ন তারাই এই ধরনের ‘নোংরা রাজনীতি’র আশ্রয় নিচ্ছে। তার দাবি, বিরোধীরা সুপরিকল্পিতভাবে তৃণমূলকে হেয় করতে এবং জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়াতে এই পোস্টারকাণ্ড ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি বিজেপি। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র শাসক দলকে তীব্র কটাক্ষ করে জানিয়েছেন যে, তৃণমূলের নেতারা যে আকণ্ঠ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, এই পোস্টার তারই চাক্ষুষ প্রমাণ। সাধারণ মানুষ যে এই অরাজকতায় বিরক্ত, তা আজ প্রকাশ্য পোস্টারের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, ভাতারের এই পোস্টার বিতর্ক আপাতত জেলার রাজনৈতিক পারদকে তুঙ্গে নিয়ে গেছে।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---