---Advertisement---

Auto Image Slider

প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে ভুয়ো নথি ও সিল ব্যবহার, বর্ধমান মেডিকেলে সক্রিয় বড়সড় চাকরি প্রতারণা চক্র, পুলিশের জালে এক প্রতারক

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানা এলাকার মহিনাগর নিবাসী তেলু মাজি (৪১) নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে বিভিন্ন বিভাগে চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গত ১১ মার্চ বিকেল ৩টা ১৫ মিনিট নাগাদ তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ব্যক্তি নিজেকে একজন প্রভাবশালী প্লেসমেন্ট এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণা মূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিল। এই ঘটনায় একটি সুসংগঠিত চক্র জড়িত থাকার আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

তদন্তের স্বার্থে পুলিশ জানিয়েছে যে, অভিযুক্ত তেলু মাজি কেবল মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য সে বিভিন্ন সরকারি আধিকারিকের ভুয়ো সিল এবং জাল নথি ব্যবহার করত। অভিযোগকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, সে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, এমএসভিপি এবং এসডিডিপির ন্যায় উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব খাটাত। তাদের জাল স্বাক্ষর সংবলিত নিয়োগপত্র দেখিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অংকের অর্থ দাবি করত সে। অভিযুক্তের দাবি ছিল, কলেজের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে, যার ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া তার নিয়ন্ত্রণাধীন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে এই অনিয়মগুলি আসে। অধ্যক্ষ মৌসুমি বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, সন্দেহজনক কিছু নথি নজরে আসার পরেই তারা অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেন। কয়েকদিন আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি যখন মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে প্রবেশ করে, তখন কলেজের রক্ষীরা তাকে ধরার জন্য প্রধান ফটকগুলি বন্ধ করে তল্লাশি চালায়। তবে অত্যন্ত ধূর্ততার সঙ্গে সেই যাত্রায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় তেলু মাজি। এরপর পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয় এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তারক্ষীদের সর্বোচ্চ স্তরে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নিজেকে আড়াল করতে এবং পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের শারীরিক অবয়ব পরিবর্তনের চেষ্টা করে। কয়েকদিন আত্মগোপন করার পর সে তার দাড়ি কেটে ফেলে সম্পূর্ণ নতুন চেহারায় ফের মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে প্রবেশ করে। তবে তার এই ছদ্মবেশ কাজে আসেনি। কলেজের সতর্ক নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে চিহ্নিত করে ফেলেন এবং তৎক্ষণাৎ পাকড়াও করেন। এই গ্রেফতারির পর তাকে বর্ধমান থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ মহোদয়া জানিয়েছেন যে, প্রশাসনের তৎপরতার কারণেই এই প্রতারককে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

See also  বর্ধমানে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতদেহের সংখ্যা, সামাল দিতে দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে নির্মল ঝিলের গ্যাস চুল্লী

বর্তমানে এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তদন্তাধীন। পুলিশ অভিযুক্তের কাছে থাকা বিভিন্ন জাল নথি এবং স্ট্যাম্প বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, এই চক্রে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বা বাহ্যিক এজেন্ট যুক্ত থাকতে পারে। অভিযুক্তকে আরও বিস্তারিত জেরার জন্য এবং প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থের হদিস পেতে আদালত তাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরণের জালিয়াতি জনমনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---