ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,জামালপুর: জামালপুরের আঝাপুরের আবুজহাটিতে ১৯ নং জাতীয় সড়কের নাকা চেকিং পোস্ট সংলগ্ন এলাকায় এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলো জাতীয় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিযুক্ত এক শ্রমিকের। দুর্ঘটনায় গুরুতর যখন হয়েছেন আরেকজন শ্রমিক। তাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি চার চাকা দ্রুত গতির গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে কাজ করতে থাকা শ্রমিকদের সজোরে ধাক্কা মারে। ঘটনার আকস্মিকতায় এবং বীভৎসতায় এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

প্রশাসনিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত শ্রমিকের নাম কালীপদ রায়। এবং আহত শ্রমিকের নাম দীলিপ রায়। তাঁরা উভয়েই ঝাড়গ্রাম জেলার বাসিন্দা বলে শনাক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় তাঁরা জাতীয় সড়কের ওপর রোড মার্কিং বা রঙের কাজ করছিলেন। জীবিকার তাগিদে ভিন জেলা থেকে আসা এই দুই শ্রমিক যখন নিজেদের কাজে মগ্ন ছিলেন, ঠিক সেই সময় আচমকাই একটি বেপরোয়া গতির প্রাইভেট কার ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন করে তাঁদের ধাক্কা মারে। অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে, ঘটনাস্থলেই ছিটকে পড়েন দুজনেই।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিকটবর্তী নাকা চেকিং পোস্টে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা কালবিলম্ব না করে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় দীলিপ ও কালিপদবাবুকে উদ্ধার করে দ্রুত বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, দুজনের মধ্যে কালীপদ রায়ের মৃত্যু হয়েছে। ওপর ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় আঝাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনার জেরে জাতীয় সড়কে বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল বিঘ্নিত হয়, যার ফলে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। ঘাতক গাড়িটি পলাতক এবং অভিযুক্ত চালকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। সম্পূর্ণ ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। জাতীয় সড়কে মেরামতির কাজ চলাকালীন শ্রমিকদের যথাযথ নিরাপত্তা বেষ্টনী ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।










