---Advertisement---

আন্তর্জাতিক যোগাসন প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতলো পূর্ব বর্ধমানের প্রত্যুষা

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,জামালপুর: আন্তর্জাতিক মঞ্চে যোগাসন প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয়লাভ করে দেশের সম্মান উজ্জ্বল করলো পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম কোরার মেয়ে ১২ বছরের প্রত্যুষা কোলে। প্রতিবেশী দেশ নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে সে শুধু জামালপুর নয়, গোটা রাজ্য তথা ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছে।

বিজ্ঞাপন

পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম কোরা। গ্রামের সুমিত কোলের ১২ বছর বয়সী কন্যা প্রত্যুষা ছোটবেলা থেকে যোগাসনে জেলা ও রাজ্য স্তরে সাফল্য অর্জন করেছে।
যোগাসনের এই কচি প্রতিভা প্রত্যুষা, তার অসাধারণ নৈপুণ্য এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই সম্মান অর্জন করেছে।
সোনার পদক নিয়ে প্রত্যুষার বাড়ি ফেরায় কোরার গ্রামে এখন আনন্দের বন্যা। প্রত্যুষার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার পরিবার এবং গ্রামের মানুষজন। তারা মনে করছেন, প্রত্যুষার এই জয় গ্রামের অন্যান্য শিশুদেরও খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে উৎসাহিত করবে।

প্রত্যুষার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে প্রতিভা কোনো প্রত্যন্ত গ্রামের সীমায় আবদ্ধ থাকে না। কঠোর সংকল্প থাকলে যেকোনো ছোট জায়গা থেকেও বিশ্ব মঞ্চে স্থান করে নেওয়া সম্ভব।
এই খুদে স্বর্ণপদক জয়ী তার পরিবার, কোচ এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের জন্য আরও সম্মান আনার বিষয়ে আশাপ্রকাশ করেছে।

সম্প্রতি নেপালে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক যোগাসন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতাটি হয় নেপালের পানিটাঙ্কির এইচ এম সি হোটেলে। ভারত, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, ইউএসএ, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা সহ ১২ টি দেশ অংশ নিয়েছিল এই যোগাসন প্রতিযোগিতায়। এই প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব ১২ বয়সের গ্রুপে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলার সাথে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের কোরা গ্রামের প্রত্যুষা পাল অংশ নিয়েছিল।

সে ভারতের হয়ে সেখানে প্রতিনিধিত্ব করছিল। প্রসঙ্গত নেপালে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবার আগে তাকে নিজের জেলা, রাজ্য এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয়েছে। সেখানে সে সাফল্যের সঙ্গেই প্রথম স্থান পেয়েছিল। যার ধারা অব্যাহত রেখে নেপালেও সে প্রথম হয়ে গোল্ড মেডেল লাভ করলো। তার এই সাফল্যে দেশ যেমন গর্বিত, তেমনি আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, আমাদের জেলা পূর্ব বর্ধমান এমনকি তার নিজের ব্লক জামালপুরও আজ গর্বিত।

See also  ক্লাবের কাছে যোগ্য সম্মান পাইনি - আক্ষেপ মোহনবাগানের প্রাক্তন তারকা ত্র্যাথলিট চঞ্চল ভট্টাচার্যের

জামালপুরের জোতশ্রীরাম অঞ্চলের এক প্রত্যন্ত গ্রাম কোরা। বাবা সুমিত কোলে ও মা পিয়ালী কোলে। মেয়েকে নিয়ে তাঁদের খুব শখ যে যোগাসনে মেয়ে কিছু করে দেখাবে। তাঁরা বলেন, ব্যারাকপুর অষ্টঙ্গ অ্যাকাডেমি তে তাঁদের মেয়ে প্রশিক্ষণ নেয়। অনুশীলনের সুবিধার জন্য সে বর্তমানে চন্দননগর উসাঙ্গিনী বালিকা বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশুনা করে। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে একটি গোল্ড মেডেল, একটি ট্রফি ও সার্টিফিকেট পায় সে। সমস্ত গ্রুপের প্রথম ও দ্বিতীয় দের নিয়ে হওয়া চ্যাম্পিয়নের চ্যাম্পিয়ন প্রতিযোগিতায় সে তার থেকে অনেক বড়দের সাথে লড়াই করে রানার্স হয়। তার এই সাফল্যে যেমন তার বাবা মা খুশি তেমন রাজ্য, জেলা এবং ব্লকের সমস্ত মানুষও খুব খুশী। ব্লকের বিডিও পার্থ সারথী দে জানান, “এটা অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের খবর। এই ব্লকের ছেলে মেয়েরাও প্রত্যুষাকে দেখে খেলাধুলার প্রতি আরো অনুপ্রাণিত হবে।”

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---