ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: বিহারের বিধানসভা ভোটে দাপিয়ে বেড়িয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টির বেশ কয়েক হাজার মোটরসাইকেল। বিহারে বিজেপির সরকার গঠন হয়ে যাওয়ার পর বাংলায় ২৬-শের নির্বাচনের আগেই সেই সমস্ত মোটরসাইকেল আমদানি হতে শুরু করল এই রাজ্যে। শুক্রবার রাতে বর্ধমান রেল স্টেশনে বিহারের নাম্বার প্লেট লাগানো ৫৫টি মোটরসাইকেল পার্সেল অফিসে ট্রেন থেকে নামানো হয়। রেল সূত্রে জানা গেছে, বিহারের রাজেন্দ্রনগর থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার অফিসের ঠিকানায় জনৈক সুনিল গুপ্তা-র নামে সবকটি মোটরসাইকেল এসে পৌঁছেছে। কি কারনে বিহারের নাম্বার প্লেট লাগানো সেকেন্ড হ্যান্ড এতগুলি মোটরসাইকেল আচমকা বর্ধমান স্টেশনে এলো সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিবাদে মুখর হয়েছে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার তৃণমূল নেতৃত্ব।

তৃণমূলের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারেই বিজেপি নেতা খোকন সেনের নেতৃত্বে একাধিক মোটরসাইকেল পার্সেল অফিস থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিষয়টা জানতে পারার পরই শনিবার সকালে বর্ধমান রেল স্টেশনের পার্সেল অফিসে পৌঁছে যায় বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার তৃণমূলের একাধিক নেতৃত্ব সহ কর্মী সমর্থকরা। এরপরই বেশকিছু মোটরসাইকেলকে পার্সেল অফিসেই আটকে দেয় তারা। পাশাপাশি স্টেশনের পার্সেল অফিসের সামনেই ধর্না বিক্ষোভে বসে পড়েন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস সহ শহর তৃণমূলের সভাপতি তন্ময় সিংহরাহ ও প্রচুর কর্মী সমর্থক গণ।
অভিযোগ ওঠে, বর্ধমানের বিজেপি নেতা খোকন সেন পার্সেল অফিসে উপস্থিত থেকে বাইকগুলি বের করে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছিলেন রাতেই। এবিষয়ে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক খোকন দাস বলেন, “এই রাজ্যে কী উদ্দেশ্যে এইভাবে বিহার থেকে বাইক ঢোকানো হচ্ছে তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমরা চুপ থাকব না। ভোটের আগে বিজেপি বাইরে থেকে মোটরসাইকেল এনে, ক্রিমিনাল এনে, গুলি বন্দুক এনে রাজ্যকে অশান্ত করার চক্রান্ত করেছে। এরা তো এই মোটরসাইকেল দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অপরাধমূলক কাজকর্ম করে আবার চলে যাবে। তাই প্রশাসনের কাছে আমরা আবেদন জানাচ্ছি, এই মোটরসাইকেল গুলো কারা ব্যবহার করবে বা কি উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হলো এই সমস্ত তদন্ত করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় এই সমস্ত মোটর সাইকেল রাস্তায় বেরোলে আটক করতে হবে। বিহার থেকে এতগুলি মোটরসাইকেল কীভাবে বর্ধমানে এল, তার তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনওভাবেই এখান থেকে মোটরসাইকেল বের করতে দেওয়া হবে না। আর আমরাও এই প্রতিবাদ, ধর্না বন্ধ করবো না।”
অন্যদিকে, তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতা দেবজ্যোতি সিংহরায় বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কিছুদিন আগে বিহারে ভোট হয়েছিল। সেই সময় সেখানে আমাদের কর্মীদের দলীয় কাজে ব্যবহারের জন্য বাইক দেওয়া হয়েছিল। এখন বিহারের ভোট শেষ হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ভোট আসছে, তাই মোটরসাইকেল এখানে আনা হয়েছে। বর্ধমানের জেলা পার্টি অফিস রাঢ়বঙ্গ জোনের অফিস হওয়ায় এখানকার ঠিকানাতেই সেগুলি পাঠানো হয়েছে। প্রত্যেক নির্বাচনের সময়ই এভাবেই মোটরসাইকেল আনা হয়। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল অহেতুক জলঘোলা করার চেষ্টা করছে।” যদিও প্রশ্ন উঠেছে, বিহারের ভোটে ব্যবহার হওয়া মোটর সাইকেল কেনো বাংলায় আনার প্রয়োজন পড়লো। এই রাজ্যেও তো মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। অন্যদিকে এতগুলো মোটরসাইকেল ট্রেনে আসলেও রেল কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।









