ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, গলসি: গলসি ২নং পঞ্চায়েত সমিতির অধীন গোহগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপডাল-গোহগ্রাম, শিকারপুর ও দাদপুর এলাকার দামোদর নদের বালি ঘাটগুলি থেকে বালি বহনকারী সমস্ত গাড়ির টোল ট্যাক্স আদায়ের জন্য গোহগ্রাম পঞ্চায়েতের ডাকা বিজ্ঞপ্তি ( E-Auction) নির্দিষ্ট দিনের আগেই প্রত্যাহার করে নিলো খোদ পঞ্চায়েত প্রধান। আর এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের অস্বচ্ছতা ও অদক্ষতা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে এলাকায়। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সমিতি থেকে বিডিও, এমনকি খোদ গোহগ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের অন্ধকারে রেখে নিয়মবহির্ভূত ভাবে প্রধান এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন। ফলে ঘটনাটি সকলের গোচরে আসতেই এই ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত টোলের জন্য এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর। ই-অকশন প্রক্রিয়ার শেষ তারিখ ছিল ৬ জানুয়ারি, ২০২৬। কিন্তু তার আগেই এই প্রক্রিয়া বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় গোহগ্রাম পঞ্চায়েত। এই ঘটনায় আলোড়ন ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই সব বালি খাদ থেকে বালি উত্তোলন চলছে। এতদিন বালি খাদ মালিকরা নিজেদের উদ্যোগে রাস্তা নির্মাণ করে নদী থেকে বালি তুলতেন। আগে কখনও সেখানে টোল আদায়ের কোনও ব্যবস্থা ছিল না। অথচ হঠাৎ করেই বালিঘাটে টোল বসানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকার চাষবাসী বাসিন্দারা।
তাঁদের দাবি, বালিঘাট সংলগ্ন এলাকায় সরকারি জমির পরিমাণ অত্যন্ত কম। অধিকাংশ জমিই সাধারণ মানুষের মালিকানাধীন। অল্পকিছু অংশ সেচ দপ্তরের (ইরিগেশন ডিপার্টমেন্ট) অধীনে রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে জনগণের জমির উপর গ্রাম পঞ্চায়েত কোন আইনি ভিত্তিতে টোল বসাতে চাইছে, তা নিয়েই ওঠে প্রশ্ন। এই বিষয়ে গোহগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কানন মাঝি বলেন, “আমরা কোনওভাবেই বেআইনি কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত নই। পঞ্চায়েত যদি টোল বসাতে চায়, তাহলে কোন আইনের ভিত্তিতে তা করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করা হোক। পঞ্চায়েতের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিল, প্রস্তাবিত টোলে বড় গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি গাড়ি ৬০০ টাকা এবং ছোট গাড়ির ক্ষেত্রে ৪০০ টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা কিছুই জানতে পারিনি।”
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে গলসি–২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি হেমন্ত পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমাদের অন্ধকারে রেখে পঞ্চায়েত টোল বসানোর চেষ্টা করছিল। নোটিফিকেশন আমাদের নজরে আসার পর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।” এলাকার একাধিক জমি মালিক জানিয়েছেন, বালি খাদের ইজারাদাররা তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বালির গাড়ি যাতায়াতের জন্য জমি চেয়েছিলেন। আমরাই শর্তসাপেক্ষে চাষের জমির কিছুটা করে অংশ তাদের দেওয়ায় তারা রাস্তা তৈরী করেছেন। এখানে পঞ্চায়েতের কোনো জমি নেই। তাহলে পঞ্চায়েত কিভাবে ব্যক্তি মালিকানার জায়গায় টোল বসানোর জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিতে পারে! গ্রামবাসীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই রাস্তায় যদি টোল চালু করার কোনো চেষ্টা হয়, তাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবো।”









