ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: বর্ধমানের খাজা আনোয়ার বের এলাকা থেকে এক সদ্যোজাত পোষ্য সারমেয়র আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাত্র চল্লিশ দিন বয়সী ‘টুনটুনি’ নামক এই সারমেয়টির সন্ধানে ইতিমধ্যেই শহর জুড়ে পোস্টার লাগিয়েছে উদ্বিগ্ন দে পরিবার। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকেই নিখোঁজ ওই একরত্তি। ঘটনাটি বর্ধমান থানায় জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সন্ধানদাতার জন্য নগদ এক হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার বাসিন্দা সুকান্ত দে এবং তাঁর সহধর্মিনী ঝর্ণা দেবী দীর্ঘদিন ধরেই পরম যত্নে বারোটি দেশীয় প্রজাতির সারমেয় পালন করছেন। তাঁদের কনিষ্ঠতম সদস্য টুনটুনি দেশি প্রজাতির হলেও, তার বাহ্যিক রূপ বিদেশি সারমেয়র মতোই অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সুকান্তবাবুর স্ত্রী জানান, তাঁরা এই অবলা জীবদের সন্তানস্নেহে লালন-পালন করেন। শুক্রবার আচমকাই ছোট সদস্যটি নিখোঁজ হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তাঁরা। খবর পেয়ে দুর্গাপুর থেকে তড়িঘড়ি বাড়িতে ফিরে সন্ধান কার্যে যোগ দিয়েছেন দম্পতির কন্যা রাজশ্রী দেবী।
রাজশ্রী দেবী জানিয়েছেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় নিখোঁজ ডায়েরি নথিভুক্ত করেছেন। তবে তদন্তে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে বের মোড় পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরার অনুপস্থিতি। ফলে কে বা কারা এই চুরির সঙ্গে যুক্ত, তা চিহ্নিত করা পুলিশের পক্ষেও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের আশঙ্কা, সারমেয়টির বাহ্যিক সৌন্দর্যের কারণেই হয়তো তাকে কেউ অপহরণ করেছে। অভিযুক্ত চিহ্নিত না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে দে পরিবারে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মাত্র চল্লিশ দিনের এই সারমেয়টির নিয়মিত টিকাকরণ, ডি-ওয়ার্মিং ও বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন। পারভোর মতো মারণ ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং নির্দিষ্ট ডায়েট মেনে চলার বিষয়টি নিয়ে পরিবার অত্যন্ত চিন্তিত। অন্য কেউ তাকে নিয়ে গিয়ে সঠিক চিকিৎসা বা খাদ্য প্রদান করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শহরবাসীর কাছে দে পরিবারের বিনীত আবেদন, কেউ যদি টুনটুনির সন্ধান পান, তবে মানবিকতার খাতিরে যেন অবিলম্বে যোগাযোগ করেন।










