ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,জামালপুর: ভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ফের রাজ্যে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা। পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর থানার অন্তর্গত ইলামবাজার এলাকায় ৬০ জন পুণ্যার্থী বোঝাই একটি পর্যটক বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে। এই ঘটনায় বাসের চালক ও খালাসি সহ অন্তত আটজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, আশঙ্কাজনক দুই ব্যক্তিকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র চকদিঘি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।


স্থানীয়া ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার আনুমানিক ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুণ্যার্থীদের দলটি নদীয়ার মায়াপুর থেকে দর্শনীয় স্থান দর্শন শেষে হুগলির খানাকুলের হরিশচন্দ্রপুরের অভিমুখে ফিরছিল। ইলামবাজার এলাকায় পৌঁছানোর পর চালক আকস্মিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বাসটি প্রথমে সজোরে রাস্তার ধারে থাকা একটি হাই-ভোল্টেজ বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা মারে এবং পরবর্তীতে তীব্র গতিতে একটি বসতবাড়ির দেওয়ালে পিষে যায়। ধাক্কার অভিঘাতে বাসের সম্মুখভাগ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম উদ্ধারকাজে হাত বাড়ান। খবর পেয়ে জামালপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় জামালপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর দুই জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় চিকিৎসকেরা তাদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘ পথ যাত্রার ধকল এবং ভোররাতের দিকে চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণেই এই মর্মান্তিক বিপত্তি ঘটেছে। দুর্ঘটনার জেরে মেমারি-তারকেশ্বর রুটে যান চলাচল কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে পড়ে। তবে পুলিশ ক্রেনের সাহায্যে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিলে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জাতীয় ও রাজ্য সড়কগুলিতে দূরপাল্লার চালকদের রাত্রিকালীন ক্লান্তি দূর করার সুনির্দিষ্ট পরিকাঠামো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসন এই ঘটনার একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।








