ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলার খন্ডঘোষ থানা এলাকার দামোদর নদে স্নান করতে নেমে এক যুবকের তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। নিখোঁজ যুবকের নাম কুনাল ডোম (২২)। তিনি বর্ধমান শহরের ষাঁড়খানা গলির বাসিন্দা। বুধবার দ্বিতীয় দিনেও জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দামোদর নদের গৈতানপুর চরমানায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পেতে প্রশাসনের তরফে বিশেষ ডুবুরি দল নামানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমান শহরের ষাঁড়খানা গলি এলাকা থেকে কুনাল ডোম সহ বেশ কয়েকজন যুবক খন্ডঘোষের গৈতানপুর চরমানায় পিকনিক করতে এসেছিলেন। রান্নাবান্নার প্রস্তুতির মাঝেই তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে বন্ধুদের সাথে দামোদর নদে স্নান করতে নামেন কুনাল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, স্নান করার সময় হঠাৎই জলের প্রবল তোড়ে তিনি গভীর খাদের দিকে তলিয়ে যান। বন্ধুরা তড়িঘড়ি উদ্ধারের চেষ্টা করলেও নদীগর্ভে নিখোঁজ হয়ে যান কুনাল। বন্ধুরা সকলে মিলে খোঁজাখুঁজি করার পরও সন্ধান না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশে খবর দেন।
দুর্ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকেল থেকেই পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল উদ্ধারকাজে হাত লাগায়। তবে রাত পর্যন্ত নিখোঁজ যুবকের কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি। আজ, বুধবার সকাল থেকে পুনরায় নতুন উদ্যমে তল্লাশি শুরু করেছে জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। দুপুর গড়িয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত দেহ উদ্ধারের কোনো আনুষ্ঠানিক খবর পাওয়া যায়নি।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পৌঁছাতেই বর্ধমানের ষাঁড়খানা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় ভৌগোলিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গ্রীষ্মকালে দামোদরের জলস্তর কম মনে হলেও কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় চোরাবালি এবং গভীর খাদ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি ডিভিসি থেকে সময়ন্তর জল ছাড়ার ফলে কিছু কিছু এলাকায় জলের গভীরতা বেড়ে থাকে। পর্যটকদের অসচেতনতা এবং পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারির অভাবও এই ধরণের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় আরও কঠোর সুরক্ষাবিধি কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।








