ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক, পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করার প্রক্রিয়া মঙ্গলবারও জারি থাকলো। জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে বুধবার বর্ধমান আদালতে পেশ করেছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। সরকারি আবাস যোজনার ঘর দেওয়ার নাম করে ৪৫ হাজার টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল ওয়ার্ড সভাপতি সহ ২ নেতাকে গ্রেফতার করল মেমারি থানার পুলিশ। মেমারি পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ কোলে ওরফে পদু এবং অপর এক তৃণমূল নেতা শ্রীমন্ত সর্দার-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৬(২), ১১৫(২), ৩০৮(৫), ৩৫১(২), ৩(৫) এবং ৭৪ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করে বুধবার বর্ধমান আদালতে পুলিশ ধৃতদের পেশ করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ধনাই ভূমিজ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা নেয় অভিযুক্ত এবং পরে আবাসের বাড়ি না পেলে সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে অভিযুক্তরা ধনাই ভূমিজ ও তার স্ত্রী-কে মারধর করে বলে অভিযোগ। অভিযোগের পরিপেক্ষিতেই এই দুই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যদিকে তোলাবাজি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ তৃণমূলের অঞ্চল যুব সভাপতি-কে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম সোমনাথ ব্যানার্জী ওরফে অষ্টম। সোমনাথ ব্যানার্জী বর্ধমান ১ নং ব্লকের কুড়মুন ১ অঞ্চল যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩২৯(৪), ১২৬(২), ৩০৮(৫), ৩৫১(৩) ও ৩(৫) নম্বর ধারায় মামলা রুজু করে বুধবার বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়।
এছাড়াও বিধানসভা নির্বাচনের আগে অপরাধমূলক কাজ সংঘটিত করার উদ্দেশ্যে বোমা মজুত করার অভিযোগে এবার পুলিশের জালে আরও এক তৃণমূল নেতা। ধৃতের নাম আহমেদ শামস্ তাবরিজ ওরফে অরূপ মিদ্দা।
ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় বিস্ফোরক আইনের ৯ বি [১(এ)(বি)] ধারায় মামলা রুজু করে বুধবার তাকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই গত ৬ এপ্রিল আউসগ্রাম বেলেমাঠ কমিউনিটি হল সংলগ্ন আখের ক্ষেত থেকে বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ একটি জারিকেনে রাখা তিনটি বোমা উদ্ধার করে। পরে সিআইডি বোম ডিসপোজাল স্কোয়াডের সহযোগিতায় বোমাগুলোকে নিষ্ক্রিয় করা হয়। এই ঘটনায় এএসআই সৌমেন দত্তের নেতৃত্বে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে আউশগ্রাম থানার পুলিশ।
তদন্ত নেমে পুলিশ আউশগ্রাম থানার বেলেমাঠ গ্রামের বাসিন্দা জাকির মোল্লা-কে গ্রেফতার করে এবং নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে ধৃত জাকির মোল্লা-কে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে নির্বাচনের আগে অপরাধমূলক কাজ সংগঠিত করার জন্যই আহমেদ শামস্ তাবরিজ ওরফে অরূপ মিদ্দার নেতৃত্বে বোমাগুলো মজুত করা হয়েছিল। এরপরই জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেল নাগাদ অরূপ মিদ্দা-কে গ্রেফতার করে আউসগ্রাম থানার পুলিশ।
অন্যদিকে রায়না থানার পুলিশ তোলাবাজি ও অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে দক্ষিণকুল এলাকার বাসিন্দা শেখ হাফিজুল, বামুনিয়া এলাকার জামালউদ্দিন মির্জা ওরফে বাদশা ও রূপসোনা গ্রামের বাসিন্দা কাজী সাজ্জাদ আলী কে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের বুধবার বর্ধমান আদালতে পেশ করেছে পুলিশ। এছাড়াও হুমকি ও তোলাবাজির অভিযোগে রায়নার উচালন গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা রায়না ২ নং ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান খান-কে গ্রেফতার করলো মাধবডিহি থানার পুলিশ। ধৃতকে আজ বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়।








