---Advertisement---

Auto Image Slider

ভবিষ্যৎ গড়ছেন, কিন্তু নিজেদের ভবিষ্যৎই অন্ধকারে! দেড় দশক ধরে চরম বঞ্চনার শিকার সর্বশিক্ষা মিশনের কর্মীরা

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: পশ্চিমবঙ্গ সর্বশিক্ষা মিশন (PBSSM) এবং সমগ্র শিক্ষা মিশনের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক ও সামাজিক বঞ্চনার শিকার বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম প্রধান এই স্তম্ভের কর্মীরা প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা, স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন, শ্রেণী কক্ষ নির্মাণ, টয়লেট, সীমানা প্রাচীর, বিদ্যুতিকরণ, সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা, পানীয় জলের সংস্থানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এছাড়াও, UDISE+ তথ্যভান্ডার পরিচালনা, APAAR ID, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, স্কুলছুট বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি, চাইল্ড রেজিস্টার, স্মার্ট ক্লাসরুম, কম্পোজিট গ্রান্ট বিতরণ, পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন প্রক্রিয়াকরণ, বিদ্যালয়ের অডিট, বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা, PM Shri প্রকল্প, রাষ্ট্রীয় আবিষ্কার অভিযান, বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং বিদ্যালয় ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মতো বিবিধ কাজ তাঁদের কাঁধে। সরকারি অনুদান বণ্টন ও সাইকেল, জুতো, স্কুল ইউনিফর্ম, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, পাঠ্যবই, খাতা, আয়রন ট্যাবলেট বিলি-বণ্টন সহ বছরভর নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। কিন্তু এত কিছুর পরেও তাঁদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা আজও অধরা।

বিজ্ঞাপন

কর্মীদের আরও অভিযোগ, সর্বশিক্ষা মিশনে দীর্ঘদিন ধরে শূন্যপদে নিয়োগ বন্ধ থাকায় বর্তমানে কর্মরতদের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের (DPSC) কর্মীর অভাবে শিক্ষকদের বেতনের মাসিক রিটার্ন, PF, পেনশন ও ছুটির রেজিস্টার সংক্রান্ত কাজও তাঁদেরই করতে হচ্ছে। সারা বছর ধরে সরকারি নির্দেশ অনুসারে বিদ্যালয় শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বিবিধ মৌলিক ও উদ্ভাবনী কার্য্য পদ্ধতি মূলত সর্বশিক্ষা মিশনের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়ে থাকে।

উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে সমগ্র শিক্ষা মিশনের কর্মীরা দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় একই ধরনের কাজ করেও সর্বনিম্ন বেতন পান। এক বেদনাদায়ক তথ্য হলো, গত ৮ বছর ধরে তাঁদের বেতন বৃদ্ধি হয়নি। এখনও কর্মীরা একটি নির্দিষ্ট পে-স্কেলের পরিবর্তে নূন্যতম (Consolidated) বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁদের অবসরের পর পেনশনের কোনও ব্যবস্থা নেই, এমনকি স্বাস্থ্য সুরক্ষার সুবিধাও তাঁরা পান না। পূর্বে একটি বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটেও তাঁদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট আশ্বাস মেলেনি। যদিও মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিপূর্বে বলেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অধীন এ রাজ্যের কর্মচারীদের জন্য দেশের অন্যান্য ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ্যে কর্মরত কর্মীদের মতো বেতন কাঠামো চালু করা হবে এবং কর্মীদের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ও রাজ্যের শেয়ার উভয়ই প্রদান করা হবে। কিন্তু সেই আশ্বাস এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

See also  শক্তিগড়ে প্রথমবার দুদিন ব্যাপী ল্যাংচা মেলার উদ্যোগ, আশার আলো দেখছেন ব্যবসায়ীরা

উল্লেখ্য, রাজ্যে কর্মরত সর্বশিক্ষা মিশনের কর্মচারীদের নিয়োগ সরকারের নিয়ম মেনেই হয়েছে। নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা, লিখিত পরীক্ষা, কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষা এবং ইন্টারভিউয়ের মতো কঠোর ধাপ পেরিয়েই তাঁরা এই পদে এসেছেন। অথচ, দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ঠা সহকারে কাজের পরও তাঁদের চাকরির আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়নি। উচ্চশিক্ষিত এই কর্মীদের বর্তমান পারিশ্রমিক ২০২৬ সালের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতেও অক্ষম, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সমগ্র শিক্ষা মিশনের কর্মীদের মূল দাবিগুলি হলো: অসমের সর্বশিক্ষা অভিযানের কর্মীদের মতো সমমানের বেতন কাঠামো চালু করা, অবসরকালীন পেনশন নিশ্চিত করা, অবসরের বয়স ৬৫ বছর করা এবং পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্প (WBHS)-এর আওতায় তাঁদের আনা।

কর্মীদের একজন প্রতিনিধি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “আমরাই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছি, অথচ আমাদের ভবিষ্যৎই আজ অনিশ্চিত। শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রাখতে প্রতিদিন নিরলস পরিশ্রম করলেও আমাদের ন্যায্য মর্যাদা ও প্রাপ্য এখনও অধরাই রয়ে গেছে।” ভারতীয় মজদুর সংঘ অনুমোদিত কর্মচারী সংগঠন ‘রাজ্য সরকারী কর্মচারী কল্যাণ সংঘ, পশ্চিমবঙ্গ’-এর কার্যকর্তাগণ, পূর্ব বর্ধমান সর্বশিক্ষা মিশন জেলা অফিসে কর্মরত তন্ময় চ্যাটার্জ্জী, অনির্বাণ রায়, শুভ পুরকাইত এবং সৌম্য মিত্র আশাবাদী যে, বর্তমান সরকার দ্রুততার সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো চালু করবে এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভারতরত্ন অটলবিহারী বাজপেয়ীজীর স্বপ্নের প্রকল্প সর্বশিক্ষা অভিযানের কর্মীদের বিগত দেড় দশকের বঞ্চনার অবসান ঘটবে।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---