ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: শনিবার সন্ধ্যায় বর্ধমানের পালিতপুরে একটি বেসরকারি স্পঞ্জ আয়রন কারখানায় ভয়াবহ ফার্নেস বিস্ফোরণে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। লোহার ছাঁট (স্ক্র্যাপ) দেওয়ার সময় আচমকাই ফার্নেস বা চুল্লিটি বিকট শব্দে ফেটে যায়। এই ঘটনায় গলিত লোহায় ঝলসে গুরুতর জখম হয়েছেন অন্ততপক্ষে ৩ জন শ্রমিক। আহতদের মধ্যে পঙ্কজ যাদব ও উমেশ যাদবকে বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় পালিতপুরের শিল্প তালুকের ভিতরে অবস্থিত এই কারখানায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।


উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসেই (২০২৫ সালের জুন) পালিতপুরের এই স্পঞ্জ আয়রন কারখানাতেই একই ধরনের ফার্নেস বিস্ফোরণে একজন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় ১৫ জন জখম হয়েছিলেন। সেই দুর্ঘটনার পর কারখানার নাম পরিবর্তন করা হলেও, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যে খুব একটা উন্নত হয়নি, তা আজকের ঘটনা প্রমাণ করে দিচ্ছে। শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ, কারখানার চুল্লিগুলির রক্ষণাবেক্ষণে চরম গাফিলতি রয়েছে। তাদের দাবি, উৎপাদন বৃদ্ধির তাগিদে নির্দিষ্ট তাপমাত্রার বেশি উত্তাপে ফার্নেস চালু রাখা হয়, যা এই ধরনের বিস্ফোরণের অন্যতম কারণ। তাদের আরও অভিযোগ, নিয়ম মেনে চুল্লিগুলিকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চালু করার কথা থাকলেও, সেই নিয়ম মানা হয় না। এটিও দুর্ঘটনার কারণ। শ্রমিকরা বলছেন, যদি চুল্লিতে লোহার ছাঁট ভর্তি থাকত, তাহলে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও মারাত্মক হতে পারতো।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বিজেপি নেতা সঞ্জয় দাস দাবি করেছেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কারখানার সংশ্লিষ্ট ইউনিটটি আপাতত বন্ধ রাখা উচিত। কারখানার কর্তৃপক্ষের শ্রমিকদের স্বার্থ ও সুরক্ষার বিষয়ে বারবার গাফিলতির কারণেই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা। প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনা শিল্পক্ষেত্রে শ্রমিক সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তুলে দিল।








