ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর খাগড়াগড় বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল বর্ধমান। জামাত জঙ্গিদের ভয়াবহ কারসাজি প্রকাশ্যে আসার ঠিক ১২ বছর পর, সেই খাগড়াগড় থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে ফের ঘাঁটি গেড়েছিল এক জঙ্গি। শুক্রবার বেঙ্গল এসটিএফ-এর জালে ধরা পড়েছে কাশ্মীরের ‘সাজ্জাদ ভাট’ গোষ্ঠীর সদস্য হামিম মণ্ডল। এসটিএফের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে হামিমের নিশানা ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই গ্রেফতারি রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বেঙ্গল এসটিএফ সূত্রে খবর, শুক্রবার বর্ধমানের একটি অভিজাত আবাসন থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা হামিম একটি গেঞ্জি কারখানায় দর্জির কাজ করত। সম্প্রতি সে নিউটাউনে একটি ভাড়া বাড়িতে ওঠে এবং সেখান থেকে বর্ধমানের অভিজাত আবাসনে ডেরা বাঁধে। প্রতিবেশীদের কাছে নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও, তার আসল উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্প্রতি হামিম নিউটাউনে ভাড়া বাড়িতে গিয়ে ওঠে। সেই বাড়ির কাছাকাছি থাকেন মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের পথ রেকি করতে এবং তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখতেই নিউটাউনের মত জায়গায় ঘর ভাড়া নিয়েছিল হামিম বলেই তদন্তকারীদের অনুমান। এমনকী, মুখ্যমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট সফরসূচি ও ভিআইপি মুভমেন্টের গোপন নথি তার কাছে পাওয়া গিয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। যদিও সে সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সরাসরি সদস্য ছিল না, তবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এই জঙ্গি নেটওয়ার্কের জন্য তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহের কাজ করত। এই সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠী পূর্ব ভারতে মগজধোলাইয়ের দায়িত্ব নিয়েছিল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিরিয়ানি ব্যবসায়ী, সবজি বিক্রেতাদের মতো সাধারণ মানুষদের টার্গেট করত। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান সহ একাধিক রাজ্যে এই গোষ্ঠীর জাল ছড়িয়ে রয়েছে।
হামিমের আদিবাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মন্ত্বেশ্বর থানার দীর্ঘনগর গ্রামে। তার দাদু নাসিরুদ্দিন মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘হামিম হাওড়াতেই জন্মেছে ও পড়াশোনা করেছে। তবে ভোটার দীর্ঘনগর গ্রামের। এই বছর সে প্রথম ভোট দিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না তার নাতি এমন কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে এবং বলেছেন, “নাতি কোনও দোষ করে থাকলে সাজা পাবে। তবে আমাদের বিশ্বাস কোনও খারাপ কাজে জড়িত থাকতে পারে না।”
এই গ্রেফতারির পর মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে রাজ্য পুলিশ। রাজ্যের ডিজিপি বেঙ্গল এসটিএফ এবং ডিরেক্টরেট অফ সিকিউরিটির শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন বলে জানা গিয়েছে। হামিমের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, এবং এই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে আর কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত জারি রেখেছে এসটিএফ। এদিন সন্ধ্যায় হামিম মন্ডল কে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে এসটিএফের অফিসারেরা।








