---Advertisement---

Auto Image Slider

বর্ধমানে পর্দাফাঁস বড়সড় আন্তরাজ্য সাইবার প্রতারণা চক্রের, পুলিশি অভিযানে ৬ মহিলা সহ চক্রের পান্ডা গ্রেপ্তার

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: বর্ধমান শহরে কল সেন্টারের আড়ালে জামতাড়া গ্যাং-এর কায়দায় পরিচালিত একটি বিশাল আর্থিক প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করেছে পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল পাণ্ডা অরিৎ কুমার দাস সহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে ছয়জন মহিলা কর্মী রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরের তিনকোনিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গুডস্ সেড রোড এলাকার একটি বহুতলের দোতলায় দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণা চক্রটি একটি ঋণদান সংস্থার আড়ালে চলছিল। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো (NCRB) পোর্টালে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়ার পর পুলিশ এই নির্দিষ্ট লোকেশনটি চিহ্নিত করে। অভিযোগ ছিল, এই কেন্দ্র থেকে সাধারণ মানুষকে ঋণ দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণা করা হচ্ছে এবং মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রতারণার কৌশল ছিল অত্যন্ত সুসংবদ্ধ। সাধারণ মানুষের মনে বিশ্বাস স্থাপনের জন্য কল সেন্টারের বাইরে ‘বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে লোন পাইয়ে দেওয়া হয়’ এমন সাইনবোর্ড লাগানো ছিল। প্রতারকদের অফিসটি আধুনিক কল সেন্টারের আদলে তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে ট্রেনিং রুম, কল ডেস্ক, ডিরেক্টর রুম এমনকি রান্নাঘর ও থাকার ব্যবস্থাও ছিল। এই চক্রে বহু যুবক-যুবতীকে নিয়োগ করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, প্রতারকরা প্রথমে মহিলা কর্মীদের দিয়ে ফোন করে গ্রাহকদের লোনের প্রলোভন দেখাতো। গ্রাহকরা ফাঁদে পা দিলেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাদের আধার কার্ড, প্যান কার্ড ও ভোটার কার্ডের মতো ব্যক্তিগত নথি সংগ্রহ করা হতো। এরপর ‘প্রসেসিং ফি’ বাবদ কিউআর কোড পাঠিয়ে টাকা চাওয়া হতো। একবার টাকা পাঠানোর পর সেই গ্রাহকের কাছ থেকে একাধিকবার কৌশলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। প্রতারকরা পুলিশের নজর এড়াতেও বিশেষ কৌশল অবলম্বন করতো। ফোন ট্রেস এড়াতে স্মার্ট ফোনের বদলে কি-প্যাড ফোন ব্যবহার করা হতো এবং সিম কার্ডগুলি একটি ‘ট্রাস্ট বোর্ড’-এর নামে নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

See also  শিয়রে ভোট, দুয়ারে সরকার

এই চক্রটি রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, কোচবিহার সহ একাধিক জেলার মানুষকে টার্গেট করে প্রতারণা চালিয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত। অভিযানে পুলিশ প্রায় ৫ হাজার মোবাইল নম্বরের ডেটাবেস উদ্ধার করেছে, যা এই চক্রের টার্গেট তালিকা ছিল। এছাড়াও ১২টি সিম কার্ড, ১টি ল্যাপটপ, ৪টি ডেস্কটপ কম্পিউটার এবং ৮টি মোবাইল ফোন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি, স্ট্যাম্প ও স্ট্যাম্প পেপার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এই চক্রের মূল অভিযুক্ত অরিৎ কুমার দাস-এর বিরুদ্ধে আগেও সাইবার প্রতারণার অভিযোগ ছিল। ২০১৮ সালে সে একই ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল এবং জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফের এই ঋণদান সংস্থার আড়ালে সাইবার প্রতারণার জাল ফেলেছিল। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে অরিৎ-এর দাবি, সে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করে এবং বিনিময়ে কমিশন পায়। তবে ২০১৮ সালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি সে স্বীকার করেছে।

ধৃতদের আগামীকাল, ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশ এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে এবং প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আর্থিক প্রতারণা সম্পর্কে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---