ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: মুখ্যমন্ত্রীর বর্ধমান সফরের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই প্রকাশ্যে এল বিজেপির চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছবি। বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার দক্ষিণ বিধানসভার ৪ নম্বর মণ্ডলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে, যার অভিযোগ উঠেছে খোদ দলেরই আরেক গোষ্ঠীর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে দুই বিজেপি নেতার থানায় তুমুল বাকবিতণ্ডার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পার্টি অফিসের জানলার কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং আসবাবপত্র সহ একটি মোটর সাইকেলও ভাঙচুর করা হয়েছে। ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি অমৃত্যেন্দু চন্দ্র ওরফে রাজু চন্দ্র এই হামলার জন্য একই মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক মনোজ চক্রবর্তী ও তাঁর দলবলকে দায়ী করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে। মণ্ডল সভাপতি রাজু চন্দ্র পার্টি অফিসে ভাঙচুর দেখতে পেয়ে এই বিষয়ে অভিযোগ জানাতে থানায় যান। সেখানেই সাধারণ সম্পাদক মনোজ চক্রবর্তীও উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ জানাতে গিয়ে থানার মধ্যেই দুই নেতা তুমুল বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার তাঁদের রীতিমতো ধমকে থানা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। অফিসার স্পষ্ট জানান, অভিযোগ থাকলে জমা দিতে হবে, কিন্তু ঝগড়া করতে হলে থানার বাইরে গিয়ে করতে হবে। এই পুরো ঘটনার ভিডিও এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল, যা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

মণ্ডল সভাপতি রাজু চন্দ্রের বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযোগ এনেছেন সাধারণ সম্পাদক মনোজ চক্রবর্তী। মনোজের দাবি, রাজু চন্দ্র তৃণমূলী কায়দায় বালিঘাট থেকে তোলাবাজি করেন। তাঁর অভিযোগ, এ বিষয়ে আপত্তি জানালে মনোজের বাড়িতে হামলা হয় এবং তাঁর টোটো পুড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, রাজু চন্দ্রের পাল্টা অভিযোগ, মনোজ ও তাঁর লোকজন তৃণমূলের লোকজনকে দলে ঢুকিয়ে এলাকায় অশান্তি পাকাচ্ছেন। রাজু চন্দ্র আরও বলেন, “পার্টি অফিস আমাদের কাছে মন্দিরের মতো। সেখানে হামলা মেনে নেওয়া যায় না। আর মনোজ আগেই সাসপেন্ড হয়েছে।” দলের জেলা সভাপতি পরিবর্তনের পর এই ঘটনা বর্ধমানের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা বিজেপির অন্দরের ভাঙন ও সাংগঠনিক দুর্বলতা আরও স্পষ্ট করে তুলছে।








