---Advertisement---

Auto Image Slider

বর্ধমানে বন্ধ বসতবাড়িতে মজুদ বেআইনি মদের পাহাড়, গভীর রাতে যৌথ অভিযানে বাজেয়াপ্ত বিপুল পরিমাণ দেশি বিদেশি মদ

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের তেজগঞ্জ এলাকায় এক দুঃসাহসিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ বেআইনিভাবে মজুদ বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার গভীর রাতে জেলা পুলিশ, আবগারি দপ্তর এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তেজগঞ্জের বাসিন্দা সুশোভন অধিকারী নামক এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে অতর্কিতে হানা দেন তদন্তকারীরা। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর বাড়ির অভ্যন্তরে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ মদের কার্টুন দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয় আধিকারিকদের। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আবগারি দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে মোট ১০১ কার্টুন বিদেশি মদ এবং ৩৬ কার্টুন বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ২৭ লক্ষ টাকার কাছাকাছি বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘকাল ধরেই এখানে মদের বেআইনি কারবার চলছিল। উদ্ধার হওয়া মদের মধ্যে রয়েছে রয়েল স্ট্যাগ, সিগনেচার, রয়্যাল চ্যালেঞ্জ, টিচার্স, ওকস্মিথ, ব্লেন্ডার্স প্রাইড, রেড লেবেল ইত্যাদির বোতল নিয়ে ৯০৯ লিটার মদ, এবং ২০৮.৮০ লিটার টুবার্গ বিয়ারের বোতল। উদ্ধার হওয়া সমস্ত সামগ্রী ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত সুশোভন অধিকারীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মদের পরিমাণ এবং ধরণ দেখে তদন্তকারীরা নিশ্চিত যে এটি কোনো বড় চক্রের অংশ।

মঙ্গলবার গভীর রাতের এই অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। নিরাপত্তার খাতিরে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোটা এলাকা পুলিশ কর্ডন করে রেখেছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ এত পুলিশি তৎপরতা দেখে তাঁরা হতবাক হয়ে যান। অভিযুক্তের বাড়িতে এত বিপুল পরিমাণ মদ মজুত ছিল, তা প্রতিবেশী অনেকের কাছেই ছিল ধারণার অতীত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের প্রাক্কালে বা কোনো বড় জমায়েতের উদ্দেশ্যে এই মদ মজুত করা হয়েছিল কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

See also  মেমারিতে বাড়ি থেকে উদ্ধার গৃহবধূর রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত দেহ, তদন্তে পুলিশ

বর্তমানে বিষয়টি সম্পূর্ণ তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি এই বিপুল পরিমাণ মদের চালান কোথা থেকে সংগ্রহ করেছিলেন এবং এর আসল গন্তব্য কোথায় ছিল, তা জানতে পুলিশ জেরা শুরু করেছে। আবগারি দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, আমরা গোপন সূত্রে খবর পেয়েছিলাম যে তেজগঞ্জ এলাকায় বড়সড় একটি চোরাই মদের মজুত গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় আমরা সফলভাবে এই উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করেছি। এই পাচারচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তাদের সন্ধানেও শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাশি।

বর্ধমানের মতো জায়গায় এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে পুলিশ এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তেজগঞ্জের এই সাফল্য প্রশাসনের মনোবল অনেকটাই বৃদ্ধি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং অবৈধ নেশাজাত দ্রব্যের কারবার বন্ধ করতে আগামী দিনেও এই ধরণের ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। অভিযুক্তের বাড়িটিকে বর্তমানে সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---