---Advertisement---

Auto Image Slider

মনোনয়ন নিয়ে তুঙ্গে সংঘাত, জামালপুরের রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিজেপি প্রার্থী

Souris Dey

Published

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বিজেপি প্রার্থী অরুণ হালদার। তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় রিটার্নিং অফিসার (আরও) এবং মহকুমা প্রশাসন। প্রার্থীর দাবি অনুযায়ী, মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার দিন থেকেই তাঁকে নানাবিধ প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সামান্য বিরামচিহ্ন বা ছোটখাটো ত্রুটির অজুহাতে তাঁকে তিনবার মনোনয়ন পত্র পেশ করতে বাধ্য করা হয়। অন্যদিকে, শাসকদলের ‘ডামি’ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রশাসন অনেক বেশি নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তাঁর মতে, প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে রদবদল হলেও স্থানীয় স্তরে আধিকারিকদের মানসিকতার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

বিজ্ঞাপন

বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগের তালিকায় অন্যতম প্রধান বিষয় হলো জনৈক উৎপল বাছারের মনোনয়ন বাতিলের ঘটনা। অরুণ হালদারের দাবি, প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র সাময়িক অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ওই ব্যক্তির মনোনয়ন গ্রহণে অনীহা দেখান রিটার্নিং অফিসার। অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, হলফনামা বা এফিডেভিট পেশের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে তা গ্রহণ করা হয়নি এবং পরবর্তীতে স্ক্রুটিনির সময় তা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থীর মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং রিটার্নিং অফিসারের এই ভূমিকা সম্পূর্ণ নাটুকে ও পক্ষপাতদুষ্ট। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাটিকে গণতন্ত্রের পরিপন্থী এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা হরণের প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।

প্রসঙ্গত মঙ্গলবার সকালে বর্ধমানের বেচারহাট এলাকায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে একটি হোটেলে ডেপুটি জাতীয় কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীর উপস্থিতিতে নির্বাচন কে সামনে রেখে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে প্রত্যেকটি বিধানসভার অবজারভার, পুলিশ অবজারভার, এক্সপেনডিচার অবজারভার সহ জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, পুলিশ সুপার, সিপিএফ এর জেলা আধিকারিক সহ প্রত্যকেটি বিধানসভার আর ও-রা উপস্থিত ছিলেন। আর সেখানেই মনোনয়ন সংক্রান্ত জটিলতার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামালপুরের বিজেপি প্রার্থী।

See also  গলসিতে যুবক খুন, চাঞ্চল্য

তাঁর বক্তব্য অনুসারে, জামালপুর ৪ নম্বর মণ্ডলের শম্ভুনগরে দলের ছয়জন কর্মী যখন দেওয়াল লিখছিলেন, তখন প্রায় ৩০-৩৫ জন দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁদের ঘিরে ফেলে। প্রাণভয়ে কর্মীরা সেখান থেকে পলায়ন করেন। অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পুলিশ প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে দাবি প্রার্থীর। মন্ডল সভাপতির ফোন পুলিশ ধরেনি এবং ওসির আশ্বাসের পরেও আক্রান্ত কর্মীদের বাড়ির সামনে বাইক বাহিনীর দাপাদাপি বন্ধ হয়নি বলে তিনি জানান। এই পরিস্থিতিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনের খোলনলচে বদলে ফেলার দাবি তুলেছেন অরুণ হালদার। তিনি গোটা বিষয়টি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন এবং দিল্লির উচ্চতর নেতৃত্বকে অবহিত করেছেন।

প্রচারকার্যের জন্য অত্যাবশ্যক এলএইডি গাড়ির অনুমতি নিয়েও জেলা প্রশাসনের সাথে বিজেপির সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রার্থীর দাবি, কন্টেন্ট ভেরিফিকেশন করার জন্য গত তিন দিন ধরে তাঁকে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘোরানো হচ্ছে। বর্তমানে তাঁকে জানানো হয়েছে যে, এই অনুমতি জেলা শাসকের পরিবর্তে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর থেকে নিতে হবে। অরুণ হালদারের প্রশ্ন, একটি নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য কেন জেলা শাসক বা রিটার্নিং অফিসার এই অনুমতি দিতে পারবেন না? চারদিন ধরে প্রচারের গাড়িটি আটকে থাকায় নির্বাচনী প্রচার ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই প্রশাসনিক বিলম্বকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন।

এই সকল অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান যে, তাঁর কাছে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তিনি অবশ্যই রিটার্নিং অফিসারের কাছে কৈফিয়ত তলব করবেন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। ভিডিও ভ্যান বা প্রচারের গাড়ির অনুমতি প্রসঙ্গে জেলাশাসক স্পষ্ট করে দেন যে, বিষয়বস্তু বা কন্টেন্টের অনুমতি জেলা স্তর থেকেই দেওয়া হয় এবং তা ইতিমধ্যেই বিজেপি প্রার্থীকে প্রদান করা হয়েছে। তবে গাড়ির যান্ত্রিক ও প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়ার এক্তিয়ার জেলা প্রশাসনের নেই, সেটি সরাসরি সিইও অফিস থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অসহযোগিতা করা হচ্ছে না বলেই তিনি দাবি করেন।

See also  বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবার নবদিগন্ত: চালু হল বেডসাইড ডায়ালাইসিস ও ডিজিটাল ফ্লুরোস্কোপি
শেয়ার করুন 🤝🏻

Join WhatsApp

Join Now
---Advertisement---