সৌরীশ দে, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলায় ভারতীয় জনতা পার্টির অভাবনীয় সাফল্যের পরবর্তী পর্যায়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক অশান্তির খবর প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। বর্ধমান শহর থেকে শুরু করে গ্রামীণ এলাকার একাধিক স্থানে দোকানপাট, বসতবাড়ি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের হিংসাত্মক কার্যকলাপের পাশাপাশি মারধর ও লুঠপাটের অভিযোগ জনমানসে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বর্ধমান সাংগঠনিক জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দলের অবস্থান স্পষ্ট করতেই এই সভার ডাক দেওয়া হয় বলে নেতৃত্ব জানিয়েছেন।

সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই অশান্তির নিন্দা করেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর যারা হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাদের সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। সভাপতির দাবি অনুযায়ী, এই অশান্তি আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। তিনি মন্তব্য করেন যে, বিজেপি একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল এবং এই দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। বাজার থেকে গেরুয়া আবির কিনে গায়ে মেখে নিলেই কেউ রাতারাতি বিজেপি কর্মী হয়ে যায় না বলে তিনি বিরোধীদের কটাক্ষ করেন। এই ‘বহিরাগত’ দুষ্কৃতীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না বলে তিনি জানান।
বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অশান্তির ঘটনায় লিপ্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। যারা অতীতে বিজেপি কর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছে বা ভয় দেখিয়েছে, তাদের কোনোভাবেই দলে স্থান দেওয়া হবে না। তবে তৃণমূলের অন্দরে থেকে যারা দুর্নীতির প্রতিবাদ করেছেন, তারা যদি দলের কাঠামো মেনে যোগাযোগ করেন, তবে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলে প্রশাসনকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে বিজেপি যেকোনো প্ররোচনার বাইরে থাকতে চায় বলে অভিজিৎ তা স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন।
অভিজিৎ তা আরও অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের সাধারণ মানুষ শাসকদলের অপশাসন ও অত্যাচার সহ্য করেছেন। মানুষ এখন পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন, তাই জনসুরক্ষা নিশ্চিত করা বিজেপির অন্যতম অঙ্গীকার। তিনি ২০২১ সালের নির্বাচন পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সে সময় বহু বিজেপি কর্মীকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হয়েছিল। সেই লুঠ করা জরিমানার অর্থ অবিলম্বে শাসকদলের অভিযুক্তদের ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তিনি। প্রশাসন ও পুলিশের উদ্দেশ্যে তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিও জোরালো করেছেন, যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে থাকতে পারেন।








