ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: মঙ্গলবার সাতসকালে বর্ধমান শহরের তেলিপুকুর, মধ্যপাড়া এলাকায় এক যুবকের হাত, পা বাঁধা রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত যুবকের নাম তুফান ক্ষেত্রপাল (২৭)।

মৃত তুফানের বাবা বাপি ক্ষেত্রপাল ঘটনার পর মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে নীলপুর বটতলায় একটি মোটরসাইকেল গ্যারাজে কাজ করতেন এবং ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। সোমবার রাত ৮টা নাগাদ মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মানিক পোরেল, জগৎবেড় এলাকার সুজয় মন্ডল সহ আরও কয়েকজন তুফানকে শহরের বড়বাজার এলাকার টিন মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সারারাত তুফানের কোনো খবর পাননি তাঁর পরিবার।
বাপি ক্ষেত্রপাল অভিযোগ করেন, আজ সকালে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, মানিক পোরেলের বাড়িতেই তাঁর ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি দেখেন, তাঁর ছেলের হাত পা বাঁধা এবং দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেলে নিয়ে যায় এবং সেখানেই চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে জানান।
মৃতের বাবার দাবি, কয়েক মাস আগে এক ব্যক্তি তুফানের গ্যারাজে একটি মোটরসাইকেল সারানোর জন্য দিয়েছিল। কিন্তু যন্ত্রাংশ কেনার টাকা না দেওয়ায় মোটরসাইকেলটি দীর্ঘদিন ধরেই পড়ে ছিল। সোমবার এই মোটরসাইকেলটি ঘিরেই বড়বাজারে টিন মার্কেটের কাছে মানিক পোরেল ও সুজয় মন্ডলের সঙ্গে তুফানের কয়েকজনের আলোচনা হয়। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই মঙ্গলবার সকালে মানিক পোরেলের বাড়ি থেকেই তুফানের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হলো। বাপি ক্ষেত্রপাল স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছেলেকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে এবং যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের ফাঁসি অথবা এনকাউন্টার করা হোক।
এদিকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত মানিক পোরেল মঙ্গলবার সাতসকালেই বর্ধমান থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনার অপর অভিযুক্ত সুজয় মন্ডলকে পুলিশ আটক করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। বর্ধমান থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে খতিয়ে দেখছে।








