ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,আউসগ্রাম: পূর্ব বর্ধমান জেলার আউসগ্রাম ২নং ব্লকের ভেদিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অজয় নদীতে বেআইনী ভাবে বালি উত্তোলন ও পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে যিনি বালি উত্তোলন করছেন তিনি বীরভূমের চন্দনপুর মৌজার ইজারা পেয়েছেন। ইজারাদারের নাম শাহাজান সেখ ও কিশোর শর্মা, উভয়ের ঠিকানা বোলপুর। কিন্তু বীরভূমের দিকের অজয় নদের ইজারা থাকলেও অভিযোগ, তারাই বেআইনিভাবে নদীর উল্টোদিকে অর্থাৎ পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম ২নং ব্লকের মধ্যে ভেদিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বীলসন্ডা, পুরুচা মৌজায় বিস্তীর্ণ এলাকা, প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে। যার পরিমাণ প্রায় ৫০০ একর।

এই অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই স্থানীয় গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে পূর্ব বর্ধমানের জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। যদিও অভিযোগকারীদের অনেকেই জানিয়েছেন, এরপরেও বেআইনিভাবে বালি উত্তোলনের রাশ টানতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বীরভূমের অজয় নদের চন্দনপুর মৌজায় বালি উত্তোলনের ইজারাদার কি করে পূর্ব বর্ধমানের ভেদিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকায় বালি উত্তোলন করতে পারে, সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্বাভাবিকভাবেই, অভিযোগকারীরা সন্দেহ প্রকাশ করছেন, স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের প্রত্যক্ষ মদতেই বেআইনীভাবে এই বালি উত্তোলনকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
তাদের আরও অভিযোগ, বালি ঘাট মালিকদের সঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশের ‘সেটিং’ না থাকলে নদীর বীরভূমের দিকের চালান পূর্ব বর্ধমানের দিকে চলছে কি করে! স্থানীয়দের অভিযোগ, এরআগে একাধিকবার অভিযোগ করলেও কোনোরকম কর্ণপাত করেনি স্থানীয় প্রশাসন। ফলে দিনের পর দিন কোটি কোটি টাকার বালি চুরি করে পাচার করে দেওয়ায় খোদ রাজ্য সরকারেরই রাজস্বের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও রাতের অন্ধকারে অজয় নদের অন্যান্য আরো চারটি পয়েন্ট থেকে বেআইনিভাবে বালি তুলে পাচার করে দিচ্ছে এই বালি মাফিয়ারা বলে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ।
তাদের অনেকেরই অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে এই বেনিয়মের খবর থাকলেও অজ্ঞাত কারণে এই কারবার বন্ধের কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়না। অভিযোগকারীরা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে আবেদনে জানিয়েছেন, বালি উত্তোলনের জন্য নির্ধারিত নদীর নির্দিষ্ট অংশের জরিপ করে যাতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং এই অবৈধ কাজে যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহার জন্যই তাদের এই আবেদন।









