ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বর্ধমানের একটি বেসরকারি হোটেলে জন্মগত শ্রবণ সমস্যা ও বধিরতার আধুনিক চিকিৎসা বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ককলিয়ার ইমপ্লান্টের গুরুত্ব তুলে ধরাই ছিল এই সভার মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে জেলার শিশু বিশেষজ্ঞ, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ-সহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল জন্মগত শ্রবণ সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ, সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান এবং ককলিয়ার ইমপ্লান্ট প্রযুক্তি সম্পর্কে চিকিৎসকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

অনুষ্ঠানের মূল বক্তা ছিলেন পিয়ারলেস হাসপাতালের ইএনটি হেড অ্যান্ড নেক সার্জন ডা. এস. এন. ভট্টাচার্য। তিনি তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, জন্মগত বধিরতা বা শ্রবণ সমস্যার ক্ষেত্রে যত দ্রুত রোগ নির্ণয় করা যায় এবং চিকিৎসা শুরু হয়, ততই শিশুর স্বাভাবিক ভাষা বিকাশ ও সামাজিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়ে। ডা. ভট্টাচার্য ককলিয়ার ইমপ্লান্ট প্রযুক্তির কার্যপদ্ধতি, কোন রোগীদের জন্য এই অস্ত্রোপচার উপযোগী, অপারেশনের পরবর্তী পুনর্বাসন এবং এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। নবজাতকের শ্রবণ পরীক্ষার গুরুত্বের উপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
পিয়ারলেস হাসপাতালের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) তনুশ্রী আলি হাসপাতালের সুপার-স্পেশালিটি পরিষেবা, আধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগ সম্পর্কে চিকিৎসকদের অবহিত করেন। তিনি জানান, চিকিৎসা পরিষেবা সহজলভ্য করতে হাসপাতাল বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

আলোচনা সভার শেষ পর্বে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট বিষয়ক একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত চিকিৎসকেরা বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন, যার বিশেষজ্ঞসুলভ উত্তর দেওয়া হয়। জন্মগত শ্রবণ সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত রেফারেল এবং সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। আয়োজকদের দাবি, এই ধরনের আলোচনা চিকিৎসকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগীদের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ করে দিতেও সহায়ক হবে।
পিয়ারলেস হাসপাতালের মার্কেটিং বিভাগের সপ্তর্ষি ঘোষ বলেন, “ককলিয়ার ইমপ্লান্ট সম্পর্কে এখনও অনেকের মধ্যে পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই। অথচ সময়মতো রোগ নির্ণয় ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পৌঁছতে পারলে বহু শিশুই স্বাভাবিকভাবে কথা বলা ও শুনতে শেখার সুযোগ পায়। সেই সচেতনতা বাড়াতেই চিকিৎসকদের নিয়ে এই ধরনের বৈজ্ঞানিক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।”








