ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,খন্ডঘোষ: পূর্ব বর্ধমানের খন্ডঘোষের উজ্জ্বলপুকুর মোড় থেকে দামোদর নদের বালি খাদে যাতায়াতের জন্য নতুন রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়লো একাধিক বালিঘাট কর্তৃপক্ষ। উপযুক্ত পরিকল্পনা না করে, প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই রাস্তা তৈরির বিরুদ্ধে শনিবার প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ একজোট হয়ে নির্মীয়মান রাস্তার মাঝে বাঁশ লাগিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। মূলত বালি খাদে যাতায়াতের সুবিধার জন্য বালি খাদ মালিকদের উদ্যোগে চাষের জমি নিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে এদিন চরম উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। মূলত দেবখালের জল নিকাশের কোন সঠিক পরিকল্পনা না করেই রাস্তা তৈরি করার বিরুদ্ধে গ্রামবাসীরা প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন বলেই সকলে জানিয়েছেন।

অভিযোগ, এই রাস্তা নির্মিত হলে আশপাশের একাধিক গ্রামের স্বাভাবিক জল নিকাশের ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হবে। তার জেরে বর্ষা এলেই বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমে ভয়াবহ প্লাবনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিন এই রাস্তার বিরুদ্ধে সরব হয়ে পথে নামেন খন্ডঘোষের উজ্জ্বলপুকুর, হামিরপুর, আরাডাং, অমরপুর, খেজুরহাটি, ওয়াড়ি সহ আশপাশের গ্রামের মানুষজন। গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ আন্দোলনে সামিল হন এবং অবিলম্বে একাধিক কালভার্ট তৈরি করে নিকাশি ববস্থা করার দাবি তোলেন।
নির্মিয়মান রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা বাঁশ দিয়ে আটকে দেন। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার জল নিকাশ ব্যবস্থা প্রাকৃতিক খাল ও নীচু জমির উপর নির্ভরশীল। নতুন রাস্তা তৈরি হলে সেই স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে চাষবাস ও জনজীবনের উপর। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রশাসনের যথাযথ অনুমতি ও এলাকার মানুষের মতামত না নিয়েই বালি খাদ মালিকরা এই রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বর্ষাকালে বাড়িঘর ও ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
এমনকি এই রাস্তার জন্য যারা জমি দিয়েছেন তাদেরকেও ভুল বোঝানো হয়েছে বলে অভিযোগ। মৌখিকভাবে কথা বলে কাউকে ৭০ হাজার টাকা আবার কাউকে ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। জমি মালিকদের অভিযোগ, বালিখাদ মালিকেরা এলাকার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এমনকি যে পদ্ধতিতে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে তাতে জল নিকাশি ব্যবস্থা সঠিকভাবে করাই হয়নি। ফলে ১২ কাঠা জায়গার জন্য সামান্য টাকা দিয়ে ১২ বিঘে জমির চাষ বর্ষায় ভেসে যেতে পারে। তাই গ্রামবাসীরা আপাতত রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। গ্রামবাসীদের অনেকেই জানিয়েছেন, এই রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রশাসনের কেউ কিছুই জানেননা বলে তারা জানতে পেরেছেন। এতে গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।









