ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: রাজ্যের আসন্ন নির্বাচন ও ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় আন্দোলনের ডাক দিলেন বামফ্রন্ট নেতা মহম্মদ সেলিম। তাঁর সাফ কথা, ‘নো লিস্ট, নো ভোট’। অর্থাৎ সঠিক ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। এই দাবিতে আগামি কাল দুপুর ৩টেয় সিইও (CEO) অফিস অভিযানের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন তিনি। সেলিমের অভিযোগ, এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন এর নামে এক নিবিড় ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে বর্তমানে ‘নির্যাতন কমিশনে’ রূপান্তরিত করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব ও কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর মতে, এই এসআইআর প্রক্রিয়ার আদপে কোনো প্রয়োজনই ছিল না, এটি কেবলমাত্র বিরোধী কণ্ঠস্বর দমানোর এবং ব্যাকডোর দিয়ে বিজেপির সুবিধা করে দেওয়ার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


সেলিম আরও দাবি করেছেন যে, বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে বিভাজনের রাজনীতি করছে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে আরএসএস-এর নির্দেশিকা মেনে কাজ করছে। বিহারের মতো রাজ্যেও ভোটার তালিকায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা যুক্তিসঙ্গত অসঙ্গতি দেখা যায়নি, তবে বাংলার ক্ষেত্রে কমিশনের এই অতিসক্রিয়তা কেন—সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। তাঁর কথায়, রাজ্যের উচ্চপদস্থ আমলারা এখন সরকারি কর্মচারীর বদলে ‘দলদাসে’ পরিণত হয়েছেন। নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পরিবর্তে তাঁরা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত রয়েছেন বলে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন।
ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা ভুলের বিষয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকারও সমালোচনা করেছেন মহম্মদ সেলিম। তিনি জানান, যদি সরকার আন্তরিক হতো তবে নামের ভুল সংশোধন করার জন্য রাজ্য বিধানসভায় আইন পাস করা যেত। সরকার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে যথাযথ বিল আনতে পারত, কিন্তু তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা করেননি। সেলিমের মতে, তৃণমূলের এই সমস্ত পদক্ষেপই একটি রাজনৈতিক ‘কায়দা’ মাত্র। ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করার পরিবর্তে তাঁরা বিষয়টিকে নিয়ে স্রেফ রাজনীতি করে যাচ্ছেন। এই টালবাহানা বাংলার গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে দুর্বল করছে বলে তিনি মনে করেন।
আন্দোলনের রূপরেখা স্পষ্ট করে সেলিম জানিয়েছেন, ভোটার লিস্ট ঠিক না করে এবং যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকায় না তুলে ভোট প্রক্রিয়া কোনোভাবেই সম্পন্ন হতে দেওয়া যাবে না। দাবি না মেটা পর্যন্ত কমিশনের দপ্তরের সামনে লাগাতার ধর্ণা চালানো হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই লড়াইকে কেবল দলীয় লড়াই হিসেবে না দেখে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছেন তিনি। তাই দলমত নির্বিশেষে যে কেউ যেকোনো দলের ঝাণ্ডা নিয়ে এই আন্দোলনে শামিল হতে পারেন বলে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। আগামি কালের এই অভিযান ঘিরে কলকাতার রাজপথে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।
সামগ্রিকভাবে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং রাজ্য সরকারের সদিচ্ছা—উভয়কেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন মহম্মদ সেলিম। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে এক বিশাল অংশের ভোটারকে প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় বামপন্থীরা এখন রাজপথকেই বেছে নিয়েছেন। কালকের সিইও অফিস অভিযান শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং প্রশাসন এর মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে, যা রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।










