ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,মেমারি: পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারী থানার অন্তর্গত পারিজাত নগর এলাকায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-এর মাধ্যমে এক তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। এদিন সংশ্লিষ্ট এলাকার ২১ জন আবেদনকারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক সিএএ আইন পাসের পর থেকে সারা দেশজুড়ে যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এই শংসাপত্র প্রদান বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত হয়ে এ দেশে আশ্রয় নেওয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এই সরকারি স্বীকৃতির প্রক্রিয়াটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্বরান্বিত করা হয়েছে।

পারিজাত নগরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, এসআইআর (SIR) বা সমজাতীয় প্রশাসনিক জটিলাকার কারণে বহু মানুষ নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন। বিশেষত যাঁদের নাম বিভিন্ন তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল বা আইনি জটিলতায় দীর্ঘকাল আটকে ছিল, তাঁদের জন্য সিএএ একটি নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে। এদিন আবেদনকারীদের হাতে শংসাপত্র হস্তান্তরের সময় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আবেদনকারীরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে এই স্বীকৃতির জন্য তারা প্রতীক্ষা করছিলেন এবং আজকের এই প্রাপ্তি তাঁদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য হরিদাস মণ্ডল স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, উদ্বাস্তু হিন্দুদের দুশ্চিন্তা করার কোনও কারণ নেই। সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধভাবে প্রতিটি যোগ্য শরণার্থীর পাশে রয়েছে এবং ধাপে ধাপে যোগ্য আবেদনকারীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। তিনি আরও দাবি করেন যে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতের মাটিতে তাঁদের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হল। প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, অত্যন্ত স্বচ্ছতা এবং সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি আবেদন যাচাই করে এই শংসাপত্র অনুমোদিত হয়েছে। সরকারি নিয়মে নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করার পর তদন্তাধীন প্রক্রিয়াগুলি সম্পন্ন করেই এই নথি দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মেমারীর এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে সিএএ সংক্রান্ত বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে। একদিকে যখন এই আইনের বিরোধিতা করে বিভিন্ন পক্ষ সরব, তখন বাস্তবক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের হাতে শংসাপত্র পৌঁছানো একটি বড় ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে, এটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেয়েও বড় একটি মানবিক স্বীকৃতি। যদিও প্রশাসনিক স্তরে জানানো হয়েছে যে, এটি সম্পূর্ণ একটি বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া এবং যথাযথ আইনি পথ অবলম্বন করেই যোগ্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। এই ২১ জনের তালিকায় থাকা পরিবারগুলি এখন থেকে সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভের ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন।
মেমারীর এই নাগরিকত্ব শংসাপত্র প্রদান অনুষ্ঠানটি কেবল একটি সরকারি প্রক্রিয়া নয়, বরং বহু মানুষের কয়েক দশকের অনিশ্চিত জীবনের অবসান হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মত। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী দিনেও নিয়মমাফিক যাচাইকরণ প্রক্রিয়া জারি থাকবে যাতে কোনও যোগ্য শরণার্থী নাগরিকত্ব লাভ থেকে বঞ্চিত না হন। এই মুহূর্তে পারিজাত নগর জুড়ে নতুন নাগরিকত্ব পাওয়া মানুষগুলোর মধ্যে খুশির মেজাজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে আরও বহু আবেদনকারী এই আইনের সুবিধা নিতে উদ্বুদ্ধ হবেন বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা। মেমারীর এই নজির সামনের দিনে নাগরিকত্ব ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির অভিমুখ নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে।










